
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৮, ২০২৬, ৫:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৮, ২০২৬, ৩:১৭ পি.এম
ব্যবসায়ীকে মারধর, টাকা ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা ঝেল্লাআম বাজারে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, নগদ টাকা ছিনতাই, দোকানে ভাঙচুর এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. একরামুল হক (৬৪) উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যমুনা ঝেল্লাআম এলাকার বাসিন্দা মো. একরামুল হক দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাজারে গলামালের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, একই এলাকার মো. ইদ্রিস আলীর কাছে দোকানের খরচ বাবদ তার কিছু পাওনা টাকা ছিল। ওই পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মো. ইদ্রিস আলী, মোহাম্মদ আলী (ড্রাইভার) এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি লাঠি, দা, কুড়াল ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে তিনি দোকানের ভেতরে পড়ে গেলে মোহাম্মদ আলী তাকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তার শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর উপক্রম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সুযোগে মো. ইদ্রিস আলী দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে দোকান নির্মাণ ও মালামাল বিক্রির মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন একরামুল হক। এছাড়া দোকানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সময় বাজারের লোকজন ও স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী একরামুল হক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে মো. আকরাম আলী, মো. আক্তার হোসেন ও মো. মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সময় বাজারে উপস্থিত আরও অনেক ব্যক্তি বিষয়টির সাক্ষী বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের মতামত জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরনের হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাদের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে কেউ এলাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর সাহস পাবে না।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত