
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২০, ২০২৬, ৬:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২০, ২০২৬, ৩:০০ পি.এম
হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ও আনন্দমুখর উৎসবে জামাইষষ্ঠী

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া: শনিবার আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষ ষষ্ঠী তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ও আনন্দমুখর উৎসব জামাইষষ্ঠী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় শাশুড়ি জামাই ও মিয়ের মধুর সম্পর্ক উদযাপনে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। বাঙালি সমাজের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে জামাই ষষ্ঠী।
মেয়ে ও জামাইয়ের মঙ্গল কামনা করে এদিনটি পালন করা হয়। ষষ্ঠী পুজোর আয়োজন করা হয় এদিন বাঙালির ঘরে ঘরে। জামাই ষষ্ঠী একটি লোকায়ত প্রথা। ষষ্ঠীদেবীর পার্বণ থেকে এই প্রথার উদ্ভব। বৈদিক যুগ থেকেই জামাই ষষ্ঠী পালন হয়ে আসছে। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী তিথিতে জামাই ষষ্ঠী হয়ে থাকলেও এবার তা একটু তিথি নক্ষত্রের কারণে জামাইষষ্ঠী অনুষ্ঠিত হচ্ছে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষ ষষ্ঠী তিথিতে।
(৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বাংলা ২০ জুন ২০২৬ ইং) শনিবার প্রথম প্রহরে ষষ্ঠী পুজার আয়োজন করা হয়। ষষ্ঠীর পূজাটি অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ করে বট ও পাকুর গাছের মিলিত স্থানে ঘট স্থাপন করে এই পুজো করে থাকেন। কথিত রয়েছে, একবার এক গৃহবধূ স্বামীর ঘরে নিজে মাছ চুরি করে খেয়ে দোষ দিয়েছিলেন বিড়ালের উপর। ফলে তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। তাঁর পাপের ফলেই এই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। তখন সেই মহিলা বনে গিয়ে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনা শুরু করেন৷ তার আরাধনায় দেবী তুষ্ট হন৷ ফলে বনেই তিনি নিজের সন্তানকে ফিরে পান।
এই জন্যই ষষ্ঠীদেবীর অপর নাম অরণ্যষষ্ঠী।এদিকে মাছ চুরি করে খাওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি ওই বধূর পিতৃগৃহে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এই অবস্থায় মেয়েকে দেখার জন্য ব্যাকুল মা-বাবা একবার ষষ্ঠীপুজোর দিন জামাইকে সাদরে নিমন্ত্রণ জানান। জামাইষষ্ঠী পুজোর দিনে সস্ত্রীক উপস্থিত হলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় বাবার বাড়িতে।ষষ্ঠীপুজো রূপান্তরিত হয় জামাইষষ্ঠীতে।জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠী দেবীর পূজার মধ্যে দিয়ে এই ব্রত পালন করা হয়। মেয়ে ও জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় এ দিন মেয়ের বাবা-মা তাঁদের মনপ্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেন ।
পঞ্জব্যঞ্জনে তাঁদের আদর-আপ্যায়ন করেন। ষষ্ঠীর ফোঁটা কপালে দিয়ে, হাতে হলুদ সুতো পরিয়ে, পাখার বাতাস করে মেয়ের জামাইয়ের সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করেন।বাঙালি হিন্দুসমাজে এ উৎসবের সামাজিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশেষত যে পরিবারে সদ্য বিবাহিতা কন্যা রয়েছে সেই পরিবারে এই পার্বণটি ঘটা করে পালন করা হয়।
পুজোর সময় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পৃথক রিকাবী, ডালা, কিংবা নতুন কুলা,মধ্যে নতুন বস্ত্র, ফলফলাদি, পান-সুপারি, ধান-দূর্বা ও তালের পাখা রাখা হয়। ভক্তরা উপোস রেখে মায়ের পূজা করেন। ডালা বা কুলা থেকে নতুন বস্ত্র পরিধান করে ফলফলাদি খেতে হয়।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত