আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি ও নলছিটি উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সুগন্ধা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছে। এতে দীর্ঘদিনের এ দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমীনা আল গাজীর উদ্যোগে প্রস্তাবিত ঝালকাঠি–নলছিটি সংযোগ সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের আগে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা, কারিগরি দিক ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন (পি অ্যান্ড ডি) বিভাগের উপপরিচালক মো. নুর ইয়াসিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সভা শেষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, এলজিইডি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য জীবা আমীনা আল গাজীর পক্ষে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্ব) অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মুবিন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আরিফুর রহমান খান, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌহিদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে ঝালকাঠি ও নলছিটি উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্পায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের এ সেতু নির্মিত হলে সুগন্ধা নদীর দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।