ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ডা. খোকন আচার্য ও পরিমল চক্রবর্তী নামের দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ দুজনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ডা. খোকন আচার্য উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পরিমল চক্রবর্তী ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে বলে নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক নাগরিক ভাবনা কে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া ডা. খোকন আচার্য এক সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি আর কোনো রাজনীতি করেন না বলে তার আত্মীয়রা দাবি করেন। এলাকার একটি মহল সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে বলে তার আত্মীয় অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে পীযূষ কান্তি আচার্য নামে তার এক আত্মীয় নাগরিক ভবনার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ডা. খোকন আচার্য এখন আর রাজনীতি করেন না। মূলত একটি মহল তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বানিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছে।
’
কিন্তু আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষরযুক্ত বিদ্যাকুটের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে তো সহসভাপতি হিসেবে ডা. খোকন আচার্যের নাম রয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে পীযূষ কান্তি আচার্য বলেন, ‘মূলত এটি টেম্পারিং করে তালিকায় খোকনের নাম ‘সহসভাপতি’ হিসেবে বসানো হয়েছে। স্বাক্ষরযুক্ত আওয়ামী লীগের ওই মূল কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে ‘তাজুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তির নাম লেখা আছে।’
পরে নাগরিকভাবনা থেকে খোঁজ নিয়ে একই তারিখ ও একই ব্যক্তির স্বাক্ষরযুক্ত দুটো আওয়ামী লীগের প্যাডের একটিতে সহসভাপতি ডা. খোকন আচার্য ও অপরটিতে তাজুল ইসলামের নাম দেখতে পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক নাগরিক ভাবনা কে বলেন, ‘দুটো প্যাড পীযূষ কান্তি বাবু আমাকেও পাঠিয়েছেন।
কিন্তু আমরা খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি, খোকন আচার্যই ওই ওয়ার্ড কমিটির সহসভাপতি। এ সংক্রান্ত সব প্রমাণপত্র পুলিশ সংগ্রহ করেছে।’
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আওয়ামী লীগ নেতাকেই আদালতে চালান করা হয়েছে।