
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৩০, ২০২৬, ৮:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৫, ৪:১৯ পি.এম
উদঘাটন হয়েছে আল আমিন ও অর্ণব সরকার হত্যার রহস্য

পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা অভিযান চালিয়ে খুলনার আলোচিত দুটি খুনের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তার মধ্য অর্ণব কুমার সরকার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়র ব্যবসা প্রশাসনের ছাত্র সন্ত্রাসী গ্রুপিং আধিপত্যর দ্বন্দ্ব জেরের কারণ, অপরটি মোবাইল অপারেটর বিক্রয় প্রতিনিধি আলামিন তার ো স্ত্রীর পরকীয়ায় বলির শিকার।
পৃথক দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের তথ্য উন্মোচন করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকা বেশ কিছু আসামি আটক করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।
পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যসূত্রে থেকে নাগরিক ভাবনাকে জানিয়েছে স্ত্রীর পরকীয়ায় খুন হন মোবাইল অপারেটর বিক্রয় প্রতিনিধি আলামিন শেখ ওরফে ইমন। অপরটি দু’টি সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে হত্যা করা হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসনের ছাত্র অর্ণব সরকারকে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কেএমপির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুতুব উদ্দিন। মোবাইল অপারেটর বিক্রয় প্রতিনিধি আলামিন শেখ ওরফে ইমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি জানান, খুলনা বড় বাজারের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহার ভিকটিমের স্ত্রী লামিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক এবং এক পর্যায়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ইমন ঘটনাটি জেনে ফেলে এবং বিশ্বজিৎ শাহাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এর ফলে ইমনকে শায়েস্তা করার জন্য বিশ্বজিৎ শাহা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পূর্বের কর্মচারী নাইম ও মুন্সিকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করে। ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে নাইম ও মুন্সী ট্রাকস্ট্যান্ড কাঁচা বাজারের সামনে উপস্থিত হন। এসময় ইমন মোটরসাইকেলযোগে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ২২ তলা ভবনের সামনে এসে পৌঁছালে বিশ্বজিৎ সাহা ইমনকে চিনিয়ে দিলে মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় নাইম ও নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত. ঘোষণা করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই রাজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করলে মামলা নং-২৪। পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহযোগিতায় নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সমর্থ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার লোহার গেট এলাকার মৃত. মতিলাল সাহার ছেলে বিশ্বজিৎ সাহা (৪৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্বজিৎ সাহা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে ঘটনায়র বর্ণনা দিয়েছেন।
অর্ণব সরকার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি জানান, সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলুর সহযোগী ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ণব সরকার। এরই জেরে গ্রেনেড বাবুর সদস্যরা অর্ণবকে হত্যা করে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহরিয়ার সজল ও মাহিন হোসেন শুভ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে দু’টি সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে। পাশাপাশি নগরীর অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত খুনের ঘটনা ঘটছে তাছাড়া সকাল দুপুর রাত যে কোন সময় দখল চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে আমাদের মত নিরীহ মানুষদের।
পাশাপাশি মাদকের তৎপরতা তো রয়েছেই উঠতি বয়সী ছেলেরা মাদকে আসক্ত হয়ে যত্রতত্র নেশা করছে অকথ্য ভাষা দেশি-বিদেশি অস্ত্র প্রদর্শন সহ ছিনতাই খুনখারাবির সাথে জড়িয়ে পড়ছে এমতাবস্থায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা না থাকলে প্রতিনিয়ত সামাজিক অবক্ষয় ঘটবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত