ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।
টিকে থাকার লড়াইয়ে দাস সম্প্রদায়
অস্তিত্ব সংকটে কোটচাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প

মোঃ ফজলুল কবির গামা
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১২ বার পঠিত

মোঃ ফজলুল কবির গামা: ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার গ্রামীণ জনজীবনের অতি পরিচিত ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। আধুনিক প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের বাজারের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়া এই শিল্প এখন হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। তবে হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও উপজেলার ৫ নম্বর এলাঙ্গী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের দাস সম্প্রদায়ের কিছু পরিবার আজও আঁকড়ে ধরে আছে তাদের পূর্বপুরুষদের এই পেশা।
এক সময় ঝিনাইদহের প্রতিটি ঘরে ঘরে বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। চাটাই, কুলা, ডালা, চালুনি, খাঁচা, মুড়া, গোলা, সুড়ি, পাটি ও বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি—এই শিল্পের কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি হতো এসব গৃহস্থালি পণ্য। বিশেষ করে কোটচাঁদপুর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামটি এই শিল্পের জন্য সুপরিচিত ছিল।
তথ্যমতে, একসময় ফাজিলপুর গ্রামে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার এই পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শতাধিকে। কারিগরদের ভাষ্যমতে, বাজারে প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যের সহজলভ্যতা এবং কাঁচামালের আকাশচুম্বী দামের কারণে এই শিল্পের সাথে জড়িতরা আজ কোণঠাসা।
বংশপরম্পরায় এই পেশাকে লালন করে আসা কারিগরদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। ফাজিলপুর গ্রামের কারিগর সুমন কুমার দাস জানান, “বাবার কাছ থেকে শেখা এই পেশা আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আয় নেই বললেই চলে, তবুও মায়ার টানে ছাড়তে পারছি না।”
আরেক কারিগর বকুল কুমার দাস পণ্যের মূল্য ও কাঁচামালের বৈষম্য তুলে ধরে বলেন:
“একটি বাঁশ কিনতেই আমাদের খরচ হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। অথচ একটি ঝাপি বিক্রি করি ১৫০ টাকায়, টেপারি ১৪০ টাকা আর চালুনি ১৫০ টাকায়। এই সামান্য লাভে সংসার চালানো এখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।”
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে চ্যাঙারি ২৪০-২৫০ টাকা, পেতে ১০০ টাকা, পলো ৫০০ টাকা এবং পাইকারি দরে চাটাই ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আয়ের তুলনায় শ্রম ও উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় অনেক পরিবারই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছে।
এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে রক্ষায় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এনামুল হাসান বলেন, “বাঁশ-বেত শিল্প আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক। এটি টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। এই শিল্পের সঙ্গে যারা এখনো জড়িত আছেন, তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আশ্বাস নয়, বরং বাঁশ-বেত শিল্পকে আধুনিকায়ন করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং বাজার সম্প্রসারণের যথাযথ উদ্যোগ নিলে এই শিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। অন্যথায়, অচিরেই হয়তো যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে চিরতরে হারিয়ে যাবে ফাজিলপুর গ্রামের দাস সম্প্রদায়ের এই নিপুণ বুননশৈলী। তবুও সব প্রতিকূলতা জয় করে বাঁশের বুননেই নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছেন এলাঙ্গীর কারিগররা।
প্রতিবেদক বা একই এলাকার আরও খবর পড়ুন
মোঃ ফজলুল কবির গামা


















