ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।
হাজিরা দিয়েও স্কুলে থাকে না শিক্ষকরা

কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

এনামুল হক,বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৬৪ বার পঠিত
এনামুল হক,বিশেষ প্রতিনিধি:  পিরোজপুরের কাউখালী  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করার ঘটনা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। কমে যাচ্ছে  ক্লাসে ছাত্র উপস্থিতি।ক্লাসে একজন ছাত্র নিয়ে চলছে ক্লাস আবার কোন ক্লাসে একজনও নেই  এমন অভিযোগ অনেক এলাকাবাসীর।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী সরজমিনে স্কুলগুলোতে উপস্থিত হলে অভিযোগের সত্যতাও মেলে। অনেক শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। এরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।
২ এপ্রিল  বৃহস্পতিবার উপজেলার ১১ নং গন্ধর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয় সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটে  উপস্থিত হলে দেখা যায় এই স্কুলে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২৫ জন কাগজে কলমে থাকলেও শিশু ওয়ানে উপস্থিতি সংখ্যা ২ জন, ক্লাস ওয়ানে ১জন,  দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোন ছাত্র-ছাত্রী নাই,তবে পহেলা এপ্রিল হাজিরা খাতায় দেখা যায়  তৃতীয় শ্রেণীতে ৭জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ৫জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ৩জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিতিত আছে। অপরদিকে চারজন শিক্ষকের কাগজে হাজিরা থাকলেও স্কুলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন শিক্ষক। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী রানী বিশ্বাস জানান শিক্ষকরা  সবাই উপস্থিত হয়েছিল। তবে সত্যব্রত  খাতায় স্বাক্ষর করে  তার ব্যক্তিগত কাজে কাউখালীতে গেছেন,অন্য আরেকজন শিক্ষক  শোভন বিশ্বাস খাতায়  স্বাক্ষর করলেও স্কুলে  অনুপস্থিত।প্রধান শিক্ষক বলেন  ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্কুলে আনার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছেন। অফিস সহায়ককেও খুঁজে আনাতে হয়েছে স্কুলে। উপজেলার জব্দ কাঠি সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয় উপস্থিত হলে সেখানে দেখা যায় কাগজে-কলমে ৬জন ছাত্র ছাত্রী আছে। শিক্ষক ৪জন কাগজে-কলমে থাকলেও উপস্থিত আছেন দুইজন। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন একজন ডেপুটেশনে অপরজন ট্রেনিংয়ে রয়েছে।
উপজেলার মধ্য জোলাগাতি মোল্লারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপস্থিত চারজন শিক্ষকের তিনজনকে পাওয়া যায়। অপর শিক্ষক খাতায় হাজিরা থাকলেও স্কুলে গিয়ে পাওয়া যায় নাই।  এই স্কুলে দ্বিতীয় শিফটে পঞ্চম শ্রেণীতে উপস্থিত পাওয়া গেছে  ১একজন, চতুর্থ শ্রেণীতে ৪জন তৃতীয় শ্রেণীতে ৩জন ছাত্র-ছাত্রীকে।  তবে প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির লাভলু মোল্লা জানিয়েছেন প্রথম শিফটে ২১ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার ৬৩ নং মধ্য চিরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় শ্রেণীতে তিনজন চতুর্থ শ্রেণীতে পাঁচজন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে তিনজন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত পাওয়া যায়। তবে প্রথম শিফটে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতির বিষয় জানতে চাইলে হাজিরা খাতায় পহেলা এপ্রিল এবং ২ এপ্রিলএই দুই দিনই কোন ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি দেখাতে পারেন নাই। শ্রেণি শিক্ষক জানান লেখার সময় পাননি। এইভাবেই চলছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষ সূত্রে জানা যায় অনেক স্কুলে কাগজে কলমে ছাত্র উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে নামে মাত্র ছাত্র-ছাত্রী আছে। যার ফলে সরকারিভাবে ছাত্র-ছাত্রীর জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হয়। তা অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে কলমে ছাত্রদের নামে পাইলেও বাস্তবে তা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে নানা অজুহাতে মেডিকেল সনদপত্র দাখিল করে অনেক শিক্ষক  তাদের ব্যক্তিগত কাজে দিনের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিত থেকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় কাজে সময় পার করার অভিযোগ রয়েছে এই উপজেলা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এছাড়া অনেক ছাত্র অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। শহরমুখী শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদানে গুরুত্ব কম দিয়ে প্রাইভেট পরানের নামে বেশি ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বাসা ভাড়া নিয়ে এক এক জন শিক্ষক ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় প্রাইভ অথবা কোচিং বাণিজ্যে  লিপ্ত রয়েছেন।তাদের কাছে কোচিং করতে না গেলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব না বলেও অভিযোগ করেন ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা।
এই ধরনের অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে
বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যাচ্ছে
শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে  বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং স্কুলমুখীতা হ্রাস পাচ্ছে।
এমন ঘটনা এই উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্কুল গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত সংখ্যা কমে গেছে।অপরদিকে  কিন্ডার গার্ডেন, নূরানী মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিভিন্ন স্কুল এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এবং শিক্ষকদের কাছে স্কুল পরিদর্শনে কোন অফিসার আসেন কিনা জানতে চাইলে তারা জানান মাঝে মধ্যে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা ঊর্ধ্বতন কোন  কর্মকর্তাদেরকে স্কুল পরিদর্শনে  তেমন আসতে দেখা যায় না বলেও এলাকাবাসী জানান।
এ সমস্ত অভিযোগের ব্যাপারে দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন  গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের কাউখালী উপজেলার শাখার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন এই সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা,
নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে ।  এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।তিনি আরো বলেন  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার হোসেন এই সমস্ত অভিযোগের বিষয় বলেন,অভিযোগগুলো উদ্বেগের তবে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান স্কুল মনিটরিং জোরদার করা হবে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক বা একই এলাকার আরও খবর পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

হাজিরা দিয়েও স্কুলে থাকে না শিক্ষকরা

কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এনামুল হক,বিশেষ প্রতিনিধি:  পিরোজপুরের কাউখালী  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করার ঘটনা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। কমে যাচ্ছে  ক্লাসে ছাত্র উপস্থিতি।ক্লাসে একজন ছাত্র নিয়ে চলছে ক্লাস আবার কোন ক্লাসে একজনও নেই  এমন অভিযোগ অনেক এলাকাবাসীর।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী সরজমিনে স্কুলগুলোতে উপস্থিত হলে অভিযোগের সত্যতাও মেলে। অনেক শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। এরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।
২ এপ্রিল  বৃহস্পতিবার উপজেলার ১১ নং গন্ধর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয় সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটে  উপস্থিত হলে দেখা যায় এই স্কুলে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২৫ জন কাগজে কলমে থাকলেও শিশু ওয়ানে উপস্থিতি সংখ্যা ২ জন, ক্লাস ওয়ানে ১জন,  দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোন ছাত্র-ছাত্রী নাই,তবে পহেলা এপ্রিল হাজিরা খাতায় দেখা যায়  তৃতীয় শ্রেণীতে ৭জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ৫জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ৩জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিতিত আছে। অপরদিকে চারজন শিক্ষকের কাগজে হাজিরা থাকলেও স্কুলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন শিক্ষক। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী রানী বিশ্বাস জানান শিক্ষকরা  সবাই উপস্থিত হয়েছিল। তবে সত্যব্রত  খাতায় স্বাক্ষর করে  তার ব্যক্তিগত কাজে কাউখালীতে গেছেন,অন্য আরেকজন শিক্ষক  শোভন বিশ্বাস খাতায়  স্বাক্ষর করলেও স্কুলে  অনুপস্থিত।প্রধান শিক্ষক বলেন  ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্কুলে আনার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছেন। অফিস সহায়ককেও খুঁজে আনাতে হয়েছে স্কুলে। উপজেলার জব্দ কাঠি সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয় উপস্থিত হলে সেখানে দেখা যায় কাগজে-কলমে ৬জন ছাত্র ছাত্রী আছে। শিক্ষক ৪জন কাগজে-কলমে থাকলেও উপস্থিত আছেন দুইজন। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন একজন ডেপুটেশনে অপরজন ট্রেনিংয়ে রয়েছে।
উপজেলার মধ্য জোলাগাতি মোল্লারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপস্থিত চারজন শিক্ষকের তিনজনকে পাওয়া যায়। অপর শিক্ষক খাতায় হাজিরা থাকলেও স্কুলে গিয়ে পাওয়া যায় নাই।  এই স্কুলে দ্বিতীয় শিফটে পঞ্চম শ্রেণীতে উপস্থিত পাওয়া গেছে  ১একজন, চতুর্থ শ্রেণীতে ৪জন তৃতীয় শ্রেণীতে ৩জন ছাত্র-ছাত্রীকে।  তবে প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির লাভলু মোল্লা জানিয়েছেন প্রথম শিফটে ২১ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার ৬৩ নং মধ্য চিরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় শ্রেণীতে তিনজন চতুর্থ শ্রেণীতে পাঁচজন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে তিনজন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত পাওয়া যায়। তবে প্রথম শিফটে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতির বিষয় জানতে চাইলে হাজিরা খাতায় পহেলা এপ্রিল এবং ২ এপ্রিলএই দুই দিনই কোন ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি দেখাতে পারেন নাই। শ্রেণি শিক্ষক জানান লেখার সময় পাননি। এইভাবেই চলছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষ সূত্রে জানা যায় অনেক স্কুলে কাগজে কলমে ছাত্র উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে নামে মাত্র ছাত্র-ছাত্রী আছে। যার ফলে সরকারিভাবে ছাত্র-ছাত্রীর জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হয়। তা অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে কলমে ছাত্রদের নামে পাইলেও বাস্তবে তা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে নানা অজুহাতে মেডিকেল সনদপত্র দাখিল করে অনেক শিক্ষক  তাদের ব্যক্তিগত কাজে দিনের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিত থেকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় কাজে সময় পার করার অভিযোগ রয়েছে এই উপজেলা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এছাড়া অনেক ছাত্র অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। শহরমুখী শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদানে গুরুত্ব কম দিয়ে প্রাইভেট পরানের নামে বেশি ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বাসা ভাড়া নিয়ে এক এক জন শিক্ষক ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় প্রাইভ অথবা কোচিং বাণিজ্যে  লিপ্ত রয়েছেন।তাদের কাছে কোচিং করতে না গেলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব না বলেও অভিযোগ করেন ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা।
এই ধরনের অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে
বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যাচ্ছে
শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে  বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং স্কুলমুখীতা হ্রাস পাচ্ছে।
এমন ঘটনা এই উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্কুল গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত সংখ্যা কমে গেছে।অপরদিকে  কিন্ডার গার্ডেন, নূরানী মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিভিন্ন স্কুল এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এবং শিক্ষকদের কাছে স্কুল পরিদর্শনে কোন অফিসার আসেন কিনা জানতে চাইলে তারা জানান মাঝে মধ্যে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা ঊর্ধ্বতন কোন  কর্মকর্তাদেরকে স্কুল পরিদর্শনে  তেমন আসতে দেখা যায় না বলেও এলাকাবাসী জানান।
এ সমস্ত অভিযোগের ব্যাপারে দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন  গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের কাউখালী উপজেলার শাখার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন এই সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা,
নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে ।  এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।তিনি আরো বলেন  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার হোসেন এই সমস্ত অভিযোগের বিষয় বলেন,অভিযোগগুলো উদ্বেগের তবে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান স্কুল মনিটরিং জোরদার করা হবে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।