ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।
আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধ আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৮ বার পঠিত

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:  রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পৈত্রিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপোষের কথা বলে ডেকে নিয়ে আপন বোন ও ভাগ্নেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত নারী বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছা. তাজমিনা জানান, উত্তর কোলকোন্দ মিয়াজীপাড়া এলাকার তার দুই ভাই মো. ইলিয়াছ হোসেন ও ইউনুচ আলীর সঙ্গে পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ইলিয়াছ তাকে তার বাড়িতে ডাকেন। সেই অনুযায়ী তিনি ছেলে তাজুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে কিছু দূর যাওয়ার পর তার দুই ভাই, ভাতিজাসহ অন্যান্য আসামিরা তাদের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং ছেলে তাজুলের কপালে হাড় ভাঙা আঘাত লাগে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় আজিবর রহমান ও লিলি মাইসহ কয়েকজন এগিয়ে এলে আজিবরের শার্টের কলার ধরে জোরপূর্বক ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং লিলি মাইয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয়রা মা-ছেলেকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাক্ষী বাদশা মিয়ার মাধ্যমে ২০ মার্চ গঙ্গাচড়া মডেল থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তাজমিনা।
সংবাদ সম্মেলনে তাজমিনা আরও অভিযোগ করেন, মূল ঘটনাকে আড়াল করতে মামলার ১ নম্বর আসামি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী রিয়াদুন্নবী রিয়াদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন। এছাড়া মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তার করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক হবার কারণে ১নম্বর আসামী মোঃ রিয়াদুন্নবী রিয়াদ আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই খুলেআম ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং প্রসাশনের নীরব ভুমিকা। সংবাদ সম্মেলনে তাজমিনার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে রাজু আহমেদ। এ সময় পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
একই সময় স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা এনে দেওয়ার কথা বলে সাংবাদিক রিয়াদ তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু কোনো সহায়তা বা টাকা ফেরত দেননি। এছাড়া মরিচা বেগম নামে আরেক নারী অভিযোগ করেন, ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কার্ড বা টাকা কোনোটিই পাননি। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ঘটনার ওবিষয়ে উভয় পক্ষে মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবেদক বা একই এলাকার আরও খবর পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধ আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:  রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পৈত্রিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপোষের কথা বলে ডেকে নিয়ে আপন বোন ও ভাগ্নেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত নারী বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছা. তাজমিনা জানান, উত্তর কোলকোন্দ মিয়াজীপাড়া এলাকার তার দুই ভাই মো. ইলিয়াছ হোসেন ও ইউনুচ আলীর সঙ্গে পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ইলিয়াছ তাকে তার বাড়িতে ডাকেন। সেই অনুযায়ী তিনি ছেলে তাজুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে কিছু দূর যাওয়ার পর তার দুই ভাই, ভাতিজাসহ অন্যান্য আসামিরা তাদের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং ছেলে তাজুলের কপালে হাড় ভাঙা আঘাত লাগে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় আজিবর রহমান ও লিলি মাইসহ কয়েকজন এগিয়ে এলে আজিবরের শার্টের কলার ধরে জোরপূর্বক ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং লিলি মাইয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয়রা মা-ছেলেকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাক্ষী বাদশা মিয়ার মাধ্যমে ২০ মার্চ গঙ্গাচড়া মডেল থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তাজমিনা।
সংবাদ সম্মেলনে তাজমিনা আরও অভিযোগ করেন, মূল ঘটনাকে আড়াল করতে মামলার ১ নম্বর আসামি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী রিয়াদুন্নবী রিয়াদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন। এছাড়া মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তার করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক হবার কারণে ১নম্বর আসামী মোঃ রিয়াদুন্নবী রিয়াদ আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই খুলেআম ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং প্রসাশনের নীরব ভুমিকা। সংবাদ সম্মেলনে তাজমিনার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে রাজু আহমেদ। এ সময় পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
একই সময় স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা এনে দেওয়ার কথা বলে সাংবাদিক রিয়াদ তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু কোনো সহায়তা বা টাকা ফেরত দেননি। এছাড়া মরিচা বেগম নামে আরেক নারী অভিযোগ করেন, ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কার্ড বা টাকা কোনোটিই পাননি। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ঘটনার ওবিষয়ে উভয় পক্ষে মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।