হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মাছের বংশবৃদ্ধি রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে অবৈধ চায়না দুয়ারি কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ আইনের আওতায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তোররা সাতহাজরা গ্রামের বিল থেকে ২৭টি অবৈধ চায়না দুয়ারি কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হরিপুর উপজেলার তোররা সাতহাজরা গ্রামের বিলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কুমারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে হরিপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এবং স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসীরা সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
অভিযানকালে বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে পেতে রাখা অবৈধ ২৭টি চায়না দুয়ারি জাল তোলা হয়। পরবর্তীতে এগুলোকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয় এবং উপস্থিত জনসম্মুখে আমাই দীঘির পাড়ে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন:”অবৈধ চায়না দুয়ারি কারেন্ট জালে দেশীয় ছোট প্রজাতির মাছ নির্বিচারে আটকা পড়ে মারা যায়, যা আমাদের দেশীয় মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। সূক্ষ্ম ফাঁসের এই ধ্বংসাত্মক জালে শুধু ছোট-বড় মাছই নয়; সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, কুঁচিয়াসহ জলজ পরিবেশের বিভিন্ন উপকারী প্রাণীও আটকা পড়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। এর ফলে আমাদের জলজ বাস্তুসংস্থান ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনসাধারণকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক ও নিষিদ্ধ উপায়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ ও সচেতন করা হয়েছে। উপজেলার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 
















