ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

চোরাই সোনাসহ খানখানাপুরের কুখ্যাত স্বর্ণ ব্যবসায়ী বকুল ঘোষ গ্রেপ্তার 

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুরে চুরি করা স্বর্ণ ও রুপা কেনার অপরাধে বকুল ঘোষ নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বকুল ঘোষের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাজবাড়ী জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এর আগেও রাজবাড়ী সদর থানায়সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চোরাই মাল কেনার একাধিক মামলা রয়েছে।
​তালা ভেঙে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি
​মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুরের বাসিন্দা ইকরামুল ইসলাম খানের স্ত্রী শাপলা আক্তার (৩৫) ঘর তালাবদ্ধ করে বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। পরদিন ২১ মে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন ঘরের দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে আছে।
​চোরচক্র আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ভেতরে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও নগদ টাকা লুটে নেয়। চুরি যাওয়া মালামালের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
 অপহৃত মালামাল পরিমাণ আনুমানিক মূল্য স্বর্ণের চেইন ৯ আনা ১,১২,৫০০ টাকা স্বর্ণের কানের দুল (২ জোড়া) ১০ আনা ১,২৫,০০০ টাকা স্বর্ণের আংটি (২টি) ৩ আনা ৩৭,৫০০ টাকা রুপার নূপুর ও ব্রেসলেট ১০ ভরি ৬০,০০০ টাকা নগদ টাকা ৫০,০০০ টাকা সর্বমোট ক্ষতি
৩,৮৫,০০০ টাকা।
যেভাবে ধরা পড়ল চোর ও স্বর্ণ ক্রেতারা
​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন জানান, চুরির ঘটনার পর শাপলা আক্তার বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন তাইজুর রহমান নামের এক যুবককে আটক করে।
​জিজ্ঞাসাবাদে তাইজুর চুরির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানায় যে, চুরি করা স্বর্ণ ও রুপা সে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সৌরভ মণ্ডল ও বকুল ঘোষের কাছে বিক্রি করেছে।
​এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই ২০২৬ বিকেলে পুলিশ এক চিরুনি অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে সৌরভ মণ্ডল ও বকুল ঘোষকে আটক করে। পরবর্তীতে আসামিরা পুলিশের কাছে চোরাই সোনা-রুপা কেনার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
​পুলিশের বক্তব্য
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান:
“চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে নেমে আমরা চোর এবং চোরাই সোনা-রুপা কেনাবেচার সাথে জড়িত চক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামাল সম্পূর্ণ উদ্ধারে আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :

সিরাজগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছানোয়ার হোসেন সানুর গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

27 July 2026

সোনাতলা পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

চোরাই সোনাসহ খানখানাপুরের কুখ্যাত স্বর্ণ ব্যবসায়ী বকুল ঘোষ গ্রেপ্তার 

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:০০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুরে চুরি করা স্বর্ণ ও রুপা কেনার অপরাধে বকুল ঘোষ নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বকুল ঘোষের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাজবাড়ী জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এর আগেও রাজবাড়ী সদর থানায়সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চোরাই মাল কেনার একাধিক মামলা রয়েছে।
​তালা ভেঙে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি
​মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুরের বাসিন্দা ইকরামুল ইসলাম খানের স্ত্রী শাপলা আক্তার (৩৫) ঘর তালাবদ্ধ করে বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। পরদিন ২১ মে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন ঘরের দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে আছে।
​চোরচক্র আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ভেতরে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও নগদ টাকা লুটে নেয়। চুরি যাওয়া মালামালের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
 অপহৃত মালামাল পরিমাণ আনুমানিক মূল্য স্বর্ণের চেইন ৯ আনা ১,১২,৫০০ টাকা স্বর্ণের কানের দুল (২ জোড়া) ১০ আনা ১,২৫,০০০ টাকা স্বর্ণের আংটি (২টি) ৩ আনা ৩৭,৫০০ টাকা রুপার নূপুর ও ব্রেসলেট ১০ ভরি ৬০,০০০ টাকা নগদ টাকা ৫০,০০০ টাকা সর্বমোট ক্ষতি
৩,৮৫,০০০ টাকা।
যেভাবে ধরা পড়ল চোর ও স্বর্ণ ক্রেতারা
​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন জানান, চুরির ঘটনার পর শাপলা আক্তার বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন তাইজুর রহমান নামের এক যুবককে আটক করে।
​জিজ্ঞাসাবাদে তাইজুর চুরির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানায় যে, চুরি করা স্বর্ণ ও রুপা সে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সৌরভ মণ্ডল ও বকুল ঘোষের কাছে বিক্রি করেছে।
​এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই ২০২৬ বিকেলে পুলিশ এক চিরুনি অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে সৌরভ মণ্ডল ও বকুল ঘোষকে আটক করে। পরবর্তীতে আসামিরা পুলিশের কাছে চোরাই সোনা-রুপা কেনার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
​পুলিশের বক্তব্য
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান:
“চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে নেমে আমরা চোর এবং চোরাই সোনা-রুপা কেনাবেচার সাথে জড়িত চক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামাল সম্পূর্ণ উদ্ধারে আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

Share this news as a Photo Card