
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২নং বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নির্ধারিত কর্মসূচি বা সিডিউল সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান না থাকায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন, জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আতিকুজ্জামান (মিলন) একই সঙ্গে গয়াবাড়ী ও বালাপাড়া—এই দুই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি কোন দিন কোন ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। পরিষদে এসে সচিবকে না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন জন্মনিবন্ধন ও সংশোধনসহ জরুরি সেবা নিতে আসা নাগরিকরা। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কর্মদিবস ও উপস্থিতির সময়সূচি পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। কিন্তু বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের জন্য দৃশ্যমান কোনো সিডিউল না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, জন্মনিবন্ধন সনদ বর্তমানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম, বৃত্তি পরীক্ষা, ভর্তি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সময়মতো সনদ না পাওয়ায় অনেককে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করে ইউনিয়ন পরিষদে বারবার আসতে হচ্ছে।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে জন্মনিবন্ধনও দরকার। কিন্তু একটি জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে। সচিব কখন পরিষদে থাকবেন, সেটিও আগে থেকে জানা যায় না।”
স্থানীয়দের মতে, একজন সচিবকে একসঙ্গে দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন হলে অন্তত কোন দিন কোন ইউনিয়ন পরিষদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন—সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সূচি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা এবং সাধারণ মানুষকে জানানো প্রয়োজন। তাহলে সেবা নিতে আসা নাগরিকরা নির্ধারিত দিনে পরিষদে গিয়ে হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ বিষয়ে বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আতিকুজ্জামান (মিলন) মুঠোফোনে দৈনিক নাগরিক ভাবনা-কে বলেন, “বালাপাড়া ইউনিয়নে আমি সোমবার ও বুধবার থাকি। অন্যদিন আমি গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে থাকি।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সচিব দুই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় তাদেরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সচিব দুই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকার কারণে আমাদেরও সমস্যা হয়েছে। সচিব কোন সময় কোন জায়গায় থাকেন, সেটা আমিও বলতে পারি না।”

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি 



















