ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ায় টানা সূর্যহীনতা, হিমেল হাওয়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা

উজ্জ্বল মাহমুদ | কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯৩ বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় টানা সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। জেলাজুড়ে  শনিবার থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশা না থাকলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে পুরো জেলায়।
সকালের দিকে রাস্তাঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা। অফিসগামী যাত্রী ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কাজে যেতে না পেরে অনেকে দিন পার করছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
শীতের প্রভাব পড়েছে হাটবাজারেও। অধিকাংশ বাজারে দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে সকাল ১০টার পর। পেটের তাগিদে অনেকেই ঘর থেকে বের হলেও কাজ না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে। এতে দিনমজুর ও পরিবহনশ্রমিকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সদর  উপজেলার দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডা ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে আজ কাজে যেতে পারিনি। ঠান্ডাজনিত রোগ থাকায় বাইরে বের হওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর বাজারের অটোরিকশাচালক মামুন হোসেন বলেন, সকাল থেকে যাত্রী খুব কম। অফিসগামী লোকজন ছাড়া তেমন কেউ বের হচ্ছে না। শীতের কারণে আয় আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
 জেলার কুমারখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আবহাওয়া আরও এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকবে। রোববার কুষ্টিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুমারখালী আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, ঘন কুয়াশা না থাকলেও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দু-এক দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিলতে পারে এবং মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে উন্নত হবে।
এদিকে শীতের প্রভাবে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ জ্বর, সর্দি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, শীত থেকে বাঁচতে সবাইকে গরম পোশাক পরতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সব সময় গরম পোশাকে রাখা ও গরম খাবার খাওয়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

কুষ্টিয়ায় টানা সূর্যহীনতা, হিমেল হাওয়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
কুষ্টিয়ায় টানা সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। জেলাজুড়ে  শনিবার থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশা না থাকলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে পুরো জেলায়।
সকালের দিকে রাস্তাঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা। অফিসগামী যাত্রী ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কাজে যেতে না পেরে অনেকে দিন পার করছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
শীতের প্রভাব পড়েছে হাটবাজারেও। অধিকাংশ বাজারে দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে সকাল ১০টার পর। পেটের তাগিদে অনেকেই ঘর থেকে বের হলেও কাজ না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে। এতে দিনমজুর ও পরিবহনশ্রমিকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সদর  উপজেলার দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডা ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে আজ কাজে যেতে পারিনি। ঠান্ডাজনিত রোগ থাকায় বাইরে বের হওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর বাজারের অটোরিকশাচালক মামুন হোসেন বলেন, সকাল থেকে যাত্রী খুব কম। অফিসগামী লোকজন ছাড়া তেমন কেউ বের হচ্ছে না। শীতের কারণে আয় আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
 জেলার কুমারখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আবহাওয়া আরও এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকবে। রোববার কুষ্টিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুমারখালী আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, ঘন কুয়াশা না থাকলেও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দু-এক দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিলতে পারে এবং মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে উন্নত হবে।
এদিকে শীতের প্রভাবে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ জ্বর, সর্দি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, শীত থেকে বাঁচতে সবাইকে গরম পোশাক পরতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সব সময় গরম পোশাকে রাখা ও গরম খাবার খাওয়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।