কেশবপুরের কপোতাক্ষ পাড়ে কাঁকড়া চাষ, রপ্তানি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
- / ৪৭ বার পঠিত

ফ্যাশন ডিজাইনে স্নাতক শেষ করে ঢাকায় চাকরি করতেন আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৪)। মাস শেষে মোটা বেতন পেতেন। কিন্তু চাকরির একঘেয়েমি আর ‘বন্দিজীবন’ তাঁর ভালো লাগেনি। তাই চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আজ তিনি কাঁকড়া চাষে সফল একজন রপ্তানিকারক এবং বহু তরুণের অনুপ্রেরণা।
কেশবপুরের ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের এই তরুণের খামার গড়ে উঠেছে সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের পাড়ে। খামারের নাম “অ্যাকুয়া ক্র্যাব”। সেখানে বাগদা, গলদা ও ভেনামি চিংড়ির পাশাপাশি চাষ করছেন নরম খোলসের কাঁকড়া, যা রপ্তানি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও চীনে।
চাকরি থেকে কাঁকড়া চাষের পথে
২০১৮ সালে চাকরি ছেড়ে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে মাৎস্যবিজ্ঞানে একটি কোর্স করেন মামুন। কুমিল্লায় চিংড়ি চাষ করতে গিয়েই প্রথমবার জালে ধরা পড়ে দুটি কাঁকড়া। সেগুলোর দাম দেখে তাঁর আগ্রহ বাড়ে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ২৩ লাখ টাকার পুরস্কার পান। সেটিই হয় কাঁকড়া খামারের মূল পুঁজি।
আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ
কপোতাক্ষ নদঘেঁষা পাঁচ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন চাষ। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৭৩ হাজার কাঠের বক্স, যাতে আলাদাভাবে কাঁকড়া লালন করা হয়। প্রতিটি কাঁকড়া আনার ২৫-৩৫ দিনের মধ্যে খোলস বদলে নরম খোলসের কাঁকড়ায় পরিণত হয়, যা বিদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মামুন বলেন, “নরম খোলসের কাঁকড়া পুরোটা খাওয়া যায়, তাই এর চাহিদাও বেশি। ১৭টি গ্রেডের নরম খোলসের কাঁকড়া প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।”
এই কাঁকড়াগুলো সংগ্রহ করা হয় সুন্দরবন উপকূলের নদী থেকে। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় তেলাপিয়া মাছ, যা থেকে অবশিষ্ট অংশ চিংড়ি খেয়ে নেয়—এইভাবে একই জলাশয়ে কাঁকড়া ও চিংড়ির সমন্বিত চাষ হচ্ছে।
রপ্তানির প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া
রপ্তানির জন্য কাঁকড়া তোলা হয় বক্স থেকে, এরপর মিঠাপানিতে অক্সিজেন দেওয়া, ধোয়া, ক্লোরিন দ্রবণে ভেজানো, আইসবাথ—এইসব ধাপ পেরিয়ে প্যাকেটজাত করা হয়। পরে সাতক্ষীরার মৌতলায় কোল্ডস্টোরেজ হয়ে বিদেশে পাঠানো হয়।
উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান
মামুন জানান,
“আমার প্রকল্প শুধু মুনাফার জন্য নয়, কর্মসংস্থান তৈরিরও একটি উদ্যোগ। তিন বছর আগে মাত্র ৮ জন শ্রমিক ছিল, এখন কাজ করছেন ২২ জন। ভবিষ্যতে দুই লাখ কাঁকড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।”
প্রশংসা করলেন মৎস্য কর্মকর্তা
কেশবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন,
“আমি প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখেছি। এটি লাভজনক এবং কর্মসংস্থানবান্ধব উদ্যোগ। অনেক তরুণই মামুনের মতো উদ্যোগে উৎসাহী হতে পারেন।”














