অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। গাজীপুরের কাঁঠাল মিষ্টি স্বাদ, মনোমুগ্ধকর, সুগন্ধ, কম আাঁশ ও আকর্ষণীয় রঙের কারনে অন্যান্য অঞ্চলের কাঁঠালের তুলনায় আলাদা পরিচিত অর্জন করেছে। বিশেষ করে কালিয়াকৈর, গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলার কাঁঠাল দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিয়া৷ সৃষ্টি করেছে।
গাজীপুরের কাঁঠাল ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের গৌরবময় স্বীকৃতি৷ পেয়েছে । কাঁঠালের রসালো কোষ ও স্বাদ – গন্ধের জন্য গাজীপুরের কাঁঠাল সারাদেশে জনপ্রিয়। কাঁঠাল গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও সারা বছরই কম বেশি কাঠাল পাওয়া যায়।
গাজীপুরের কাঁঠালের স্বাদ, ঘ্রাণ, আকার ও মিষ্টতার সুনাম দেশজুড়ে। গাজীপুর সদর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালিয়াকৈরের কাঁঠালে সুখ্যাতি অনেক বেশি । গাজীপুর অঞ্চলের মাটির গুনে কাঁঠালের ফলন ও স্বাদ বেশি হয়।
কাঁঠালের চমৎকার স্বাদ ও সুগন্ধের পাশাপাশি মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানাবিধ পুষ্টি গুণ। কাঁঠালে বিদ্যমান নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল বা খনিজ পদার্থ স্বাস্থ্যের উপকার সাধন করে। কাঁঠাল চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব। গাজীপুরের কাঁঠাল দেশের চাহিদা মিটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে। কৃষকদের কাঁঠাল চাষের আগ্রহ বাড়াতে হবে। কাঁঠাল চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্হা করা প্রয়োজন।
গাজীপুরের অধিকাংশ কাঁঠাল গাছগুলো বাগান না হলেও বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দুই ধারে গাছে কাঠাল ঝুলে থাকার দৃশ্য দেখা যায়। সরকারি – বেসরকারি পর্যায়ে কাঁঠাল গাছ নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যায় না। কাঁঠালের মৌসুমে পাইকার ও শ্রমিক শ্রেনির লোকদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। বেশির ভাগ সময় কৃষকরা কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পায় না।
গাজীপুরের কাঁঠাল শুধু একটি ফলই নয়, এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিআই স্বীকৃতি শুধু পণ্যের মান ও বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে না, বরং এটি একটি জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, কৃষি উৎপাদনের দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে। কাঁঠাল চাষের ব্যাপারে সরকারের তেমন কোন উদোগ নেই। কাঁঠাল চাষীদের ঋন, প্রশিক্ষণ, কাঁঠাল সংরক্ষণের দাবি কাঁঠাল চাষীদের।
গাজীপুরের কাঁঠাল শুধু দেশের বাজারেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশেও কাঁঠাল রপ্তানি হচ্ছে। দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচন করেছে।

অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার 










