ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কঠোর প্রতিরোধ

মাহফুজুর রহমান,
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / ৬৮ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণ পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সন্দেহজনকভাবে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে। তারা ইতোমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে। সাজিদ নামের এক ব্যক্তি আগেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্যাম্পাসে আসে, পরে আরও অনুপ্রবেশ ঘটে। ছাত্রদল এসব সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ করলেই আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো মব তৈরি করা হয়। শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের নামে যদি প্রশাসন একপেশে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ছাত্রদল শক্তভাবে তার বিরোধিতা করবে। শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী প্রবেশ মেনে নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে আহত এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা ফেরদৌস শেখ বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতারা মারধর করেন। পরে শিক্ষকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়। এতে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও দুইজন সহযোগী অধ্যাপকসহ বাগছাসের আহ্বায়ক আহত হন। আমি সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “ঘটনা
শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকের সিদ্ধান্ত মেনে সবাইকে চলতে হবে। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। শান্তিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় সন্ত্রাসের ঠাঁই নেই।”
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

জবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কঠোর প্রতিরোধ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণ পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সন্দেহজনকভাবে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে। তারা ইতোমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে। সাজিদ নামের এক ব্যক্তি আগেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্যাম্পাসে আসে, পরে আরও অনুপ্রবেশ ঘটে। ছাত্রদল এসব সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ করলেই আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো মব তৈরি করা হয়। শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের নামে যদি প্রশাসন একপেশে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ছাত্রদল শক্তভাবে তার বিরোধিতা করবে। শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী প্রবেশ মেনে নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে আহত এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা ফেরদৌস শেখ বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতারা মারধর করেন। পরে শিক্ষকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়। এতে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও দুইজন সহযোগী অধ্যাপকসহ বাগছাসের আহ্বায়ক আহত হন। আমি সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “ঘটনা
শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকের সিদ্ধান্ত মেনে সবাইকে চলতে হবে। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। শান্তিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় সন্ত্রাসের ঠাঁই নেই।”