ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সমমনা জোট ও বিএনপির মুখোমুখি লড়াই

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬৮ বার পঠিত
যশোর-৫ (মণিরামপুর) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন সমমনা আট দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে প্রকাশ্যে ঐক্যের কথা বলা হলেও ভেতরে ভেতরে চলছে হিসাব-নিকাশ ও কৌশলগত দরকষাকষি। অন্যদিকে এই অনিশ্চয়তাকে সামনে রেখে মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি। ফলে মণিরামপুরের রাজনীতিতে এখন একদিকে জোটের ভেতরের টানাপোড়েন, অন্যদিকে জোট বনাম বিএনপির মুখোমুখি লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমমনা আট দল এক ব্যালটে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় জোটভুক্ত একাধিক দল ও প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার চশমা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ নিজামুদ্দিন অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ জয়নাল আবেদীন টিপু, খেলাফত মসলিসের দোয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা তবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী প্রভাষক মাওলানা আব্দুল করিম নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেছেন, তিনি এই আসনে শান্তিপূর্ণ, সৎ ও জনকল্যাণমুখী প্রচারণা দেখতে চান। তার মতে, সব দল একত্রে কাজ করলে জনগণ সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ভোটারদের সেবা ও উন্নয়নকে তিনি তার রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি মানুষের ন্যায়বিচার ও অধিকার নিয়ে কাজ করে এসেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাই তিনি সংসদে কাজে লাগাতে চান। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সংগঠিত কর্মী কাঠামো ও ভোটের দিন মাঠে থাকার সক্ষমতা জোটের আলোচনায় জামায়াতের বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার প্রার্থী নিজামুদ্দিন অমিত বলেন, তার প্রচারণা মূলত জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ওপর নির্ভর করছে। তিনি মনে করেন, দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এবার ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। সে কারণে তিনি গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো শোনার ওপর জোর দিচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন টিপু বলেন, তাদের লক্ষ্য শিক্ষিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে, সেটাই তাদের প্রধান প্রত্যাশা এবং দলীয়ভাবে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, সেটির প্রতি তারা পূর্ণ সমর্থন রাখবেন।
খেলাফত মসলিসের প্রার্থী মাওলানা তবিবুর রহমান বলেন, জনগণ যেন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে প্রার্থী নির্বাচন করে, সেটাই তিনি প্রত্যাশা করেন। তার মতে, নির্বাচন কোনো বিভাজন নয়, বরং নৈতিকতার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল করিমও একই সুরে বলেন, সম্মিলিত প্রচারণা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমেই তারা এগোতে চান এবং এই আসনে সততা ও ন্যায়ের মূল্যবোধ ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সমমনা জোটভুক্ত আরও তিনটি দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও জোটের নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে ওই দলগুলোর নেতাকর্মীরা নির্ধারিত একক প্রার্থীর পক্ষেই মাঠে কাজ করবেন। জোটের ভেতরের আলোচনায় সংখ্যা নয়, বরং প্রার্থী ও দলের জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই জোটগত টানাপোড়েনের বাইরে বিএনপি এই আসনে তাদের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাঠে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করেই তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগের আলোচনা থাকায় ভোটারদের একটি অংশ তাকে নিয়ে আস্থার সংকটে ভুগছেন। অনেক ভোটারই বলছেন, এসব বিষয় প্রমাণিত হোক বা না হোক, নির্বাচনের সময় তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এর বিপরীতে এডভোকেট গাজী এনামুল হককে ভোটারদের বড় একটি অংশ সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত থাকার কারণে সামাজিক ও আইনি নানা সমস্যায় মানুষের পাশে থাকার বিষয়টি ভোটারদের কাছে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। একাধিক ভোটারের মন্তব্যে উঠে এসেছে, সবদিক বিবেচনায় সমমনা আট দল যদি এককভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নামে, তাহলে গাজী এনামুল হকের বিজয় প্রায় নিশ্চিত।
ভোটের অঙ্ক বিশ্লেষণ করে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সমমনা জোটের সম্মিলিত ভোট একত্রিত হলে তা বিএনপির একক ভোটব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে। সংগঠন, কর্মী উপস্থিতি এবং ভোটার আস্থার দিক থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এই মুহূর্তে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলেই তাদের বিশ্লেষণ।
সব মিলিয়ে যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন দাঁড়িয়ে আছে সমমনা আট দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। একক প্রার্থী ঘোষণা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ভোটের চূড়ান্ত সমীকরণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ের তথ্য ও ভোটার প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছেই এটি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত এডভোকেট গাজী এনামুল হকই এই আসনে বিজয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সমমনা জোট ও বিএনপির মুখোমুখি লড়াই

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
যশোর-৫ (মণিরামপুর) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন সমমনা আট দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে প্রকাশ্যে ঐক্যের কথা বলা হলেও ভেতরে ভেতরে চলছে হিসাব-নিকাশ ও কৌশলগত দরকষাকষি। অন্যদিকে এই অনিশ্চয়তাকে সামনে রেখে মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি। ফলে মণিরামপুরের রাজনীতিতে এখন একদিকে জোটের ভেতরের টানাপোড়েন, অন্যদিকে জোট বনাম বিএনপির মুখোমুখি লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমমনা আট দল এক ব্যালটে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় জোটভুক্ত একাধিক দল ও প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার চশমা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ নিজামুদ্দিন অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ জয়নাল আবেদীন টিপু, খেলাফত মসলিসের দোয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা তবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী প্রভাষক মাওলানা আব্দুল করিম নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেছেন, তিনি এই আসনে শান্তিপূর্ণ, সৎ ও জনকল্যাণমুখী প্রচারণা দেখতে চান। তার মতে, সব দল একত্রে কাজ করলে জনগণ সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ভোটারদের সেবা ও উন্নয়নকে তিনি তার রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি মানুষের ন্যায়বিচার ও অধিকার নিয়ে কাজ করে এসেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাই তিনি সংসদে কাজে লাগাতে চান। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সংগঠিত কর্মী কাঠামো ও ভোটের দিন মাঠে থাকার সক্ষমতা জোটের আলোচনায় জামায়াতের বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার প্রার্থী নিজামুদ্দিন অমিত বলেন, তার প্রচারণা মূলত জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ওপর নির্ভর করছে। তিনি মনে করেন, দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এবার ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। সে কারণে তিনি গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো শোনার ওপর জোর দিচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন টিপু বলেন, তাদের লক্ষ্য শিক্ষিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে, সেটাই তাদের প্রধান প্রত্যাশা এবং দলীয়ভাবে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, সেটির প্রতি তারা পূর্ণ সমর্থন রাখবেন।
খেলাফত মসলিসের প্রার্থী মাওলানা তবিবুর রহমান বলেন, জনগণ যেন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে প্রার্থী নির্বাচন করে, সেটাই তিনি প্রত্যাশা করেন। তার মতে, নির্বাচন কোনো বিভাজন নয়, বরং নৈতিকতার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল করিমও একই সুরে বলেন, সম্মিলিত প্রচারণা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমেই তারা এগোতে চান এবং এই আসনে সততা ও ন্যায়ের মূল্যবোধ ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সমমনা জোটভুক্ত আরও তিনটি দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও জোটের নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে ওই দলগুলোর নেতাকর্মীরা নির্ধারিত একক প্রার্থীর পক্ষেই মাঠে কাজ করবেন। জোটের ভেতরের আলোচনায় সংখ্যা নয়, বরং প্রার্থী ও দলের জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই জোটগত টানাপোড়েনের বাইরে বিএনপি এই আসনে তাদের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাঠে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করেই তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগের আলোচনা থাকায় ভোটারদের একটি অংশ তাকে নিয়ে আস্থার সংকটে ভুগছেন। অনেক ভোটারই বলছেন, এসব বিষয় প্রমাণিত হোক বা না হোক, নির্বাচনের সময় তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এর বিপরীতে এডভোকেট গাজী এনামুল হককে ভোটারদের বড় একটি অংশ সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত থাকার কারণে সামাজিক ও আইনি নানা সমস্যায় মানুষের পাশে থাকার বিষয়টি ভোটারদের কাছে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। একাধিক ভোটারের মন্তব্যে উঠে এসেছে, সবদিক বিবেচনায় সমমনা আট দল যদি এককভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নামে, তাহলে গাজী এনামুল হকের বিজয় প্রায় নিশ্চিত।
ভোটের অঙ্ক বিশ্লেষণ করে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সমমনা জোটের সম্মিলিত ভোট একত্রিত হলে তা বিএনপির একক ভোটব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে। সংগঠন, কর্মী উপস্থিতি এবং ভোটার আস্থার দিক থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এই মুহূর্তে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলেই তাদের বিশ্লেষণ।
সব মিলিয়ে যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন দাঁড়িয়ে আছে সমমনা আট দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। একক প্রার্থী ঘোষণা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ভোটের চূড়ান্ত সমীকরণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ের তথ্য ও ভোটার প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছেই এটি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত এডভোকেট গাজী এনামুল হকই এই আসনে বিজয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন।