ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে খুলনার জনজীবন বিপর্যস্ত, ফসলহানির শঙ্কা

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • / ৮৩ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে খুলনার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন কৃষক, খুচরা ব্যবসায়ী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।

খুলনা শহরের রয়েল মোড়, কেডিএ অ্যাভিনিউ, নিউ মার্কেট, বয়রা—এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। অধিকাংশ শপিংমল ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় পণ্যসামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে দোকানদারদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রেতার অভাবে অনেকেই সকাল সকাল দোকান বন্ধ করে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

এক ব্যবসায়ী জানান,

“সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেও কোনো বেচাকেনা হয়নি। পানিতে দোকান ভেসে যাচ্ছে, আর ক্রেতা তো দুরের কথা—রাস্তায় মানুষই নেই।”

উপকূলীয় এলাকায় চরম দুর্ভোগ

ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, সাহাপুর, বিল ডাকাতিয়া এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সঙ্গে টানা বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মাছের ঘের ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে মৎস্য ও কৃষক সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, মরিচ, লাউ, কুমড়া, শসা, ভেন্ডি, উস্তে জাতের ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ফসলের বাজারে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।

এক কৃষকের ভাষায়,

“ভেবেছিলাম বৃষ্টি হলে গাছ ভালো হবে, কিন্তু এখন দেখি ফসলই আর বাঁচছে না। মরিচগাছ তো একেবারেই শেষ।”

পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে

ফসলহানির প্রভাবে খুচরা বাজারে তরিতরকারির দাম হঠাৎই বেড়ে গেছে। একদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। বেশিরভাগ কাঁচাবাজারই বৃষ্টির কারণে বন্ধ থাকলেও যেসব বাজার খোলা ছিল, যেমন—ময়লাপোতা সন্ধ্যাবাজার, রূপসা বাজার, নতুন বাজার—সেগুলোতে পণ্যের দাম ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও হতাশাজনক

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আষাঢ় মাসজুড়ে এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় নদীর পানিপ্রবাহ বাড়লে শহর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ হতে পারে।

অপরদিকে কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান,

“বর্ষাকালীন বৃষ্টি প্রয়োজনীয় হলেও অতিবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন খামারিরা।”

সবচেয়ে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

খুলনার খেটে খাওয়া মানুষ—যেমন রাজমিস্ত্রী, রিকশাচালক, দিনমজুর, কৃষাণরা কাজ না পেয়ে চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বৃষ্টির কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।


সার্বিক চিত্রে খুলনা এখন পানিবন্দি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দ্বন্দ্বে জর্জরিত। অব্যাহত বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে খুলনার জনজীবন বিপর্যস্ত, ফসলহানির শঙ্কা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে খুলনার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন কৃষক, খুচরা ব্যবসায়ী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।

খুলনা শহরের রয়েল মোড়, কেডিএ অ্যাভিনিউ, নিউ মার্কেট, বয়রা—এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। অধিকাংশ শপিংমল ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় পণ্যসামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে দোকানদারদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রেতার অভাবে অনেকেই সকাল সকাল দোকান বন্ধ করে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

এক ব্যবসায়ী জানান,

“সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেও কোনো বেচাকেনা হয়নি। পানিতে দোকান ভেসে যাচ্ছে, আর ক্রেতা তো দুরের কথা—রাস্তায় মানুষই নেই।”

উপকূলীয় এলাকায় চরম দুর্ভোগ

ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, সাহাপুর, বিল ডাকাতিয়া এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সঙ্গে টানা বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মাছের ঘের ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে মৎস্য ও কৃষক সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, মরিচ, লাউ, কুমড়া, শসা, ভেন্ডি, উস্তে জাতের ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ফসলের বাজারে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।

এক কৃষকের ভাষায়,

“ভেবেছিলাম বৃষ্টি হলে গাছ ভালো হবে, কিন্তু এখন দেখি ফসলই আর বাঁচছে না। মরিচগাছ তো একেবারেই শেষ।”

পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে

ফসলহানির প্রভাবে খুচরা বাজারে তরিতরকারির দাম হঠাৎই বেড়ে গেছে। একদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। বেশিরভাগ কাঁচাবাজারই বৃষ্টির কারণে বন্ধ থাকলেও যেসব বাজার খোলা ছিল, যেমন—ময়লাপোতা সন্ধ্যাবাজার, রূপসা বাজার, নতুন বাজার—সেগুলোতে পণ্যের দাম ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও হতাশাজনক

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আষাঢ় মাসজুড়ে এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় নদীর পানিপ্রবাহ বাড়লে শহর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ হতে পারে।

অপরদিকে কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান,

“বর্ষাকালীন বৃষ্টি প্রয়োজনীয় হলেও অতিবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন খামারিরা।”

সবচেয়ে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

খুলনার খেটে খাওয়া মানুষ—যেমন রাজমিস্ত্রী, রিকশাচালক, দিনমজুর, কৃষাণরা কাজ না পেয়ে চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বৃষ্টির কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।


সার্বিক চিত্রে খুলনা এখন পানিবন্দি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দ্বন্দ্বে জর্জরিত। অব্যাহত বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।