ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

না ফেরার দেশে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আজাদুল কবির আরজু

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৮ বার পঠিত
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: বাংলাদেশের উন্নয়ন অঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যশোরসহ সারাদেশের উন্নয়নকর্মী, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজাদুল কবির আরজুর মৃত্যুতে যশোরের সামাজিক ও উন্নয়ন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৭৫ সালে একদল সমাজসচেতন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে যশোরে ‘জাগরণী চক্র’-এর যাত্রা শুরু করেন আজাদুল কবির আরজু। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর এই উদ্যোগ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সৎ ও মানবিক ব্যবস্থাপনার ফলে একটি ক্ষুদ্র সংগঠন পরিণত হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও সুসংগঠিত এনজিওতে।
গত প্রায় পাঁচ দশকে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, নারী ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা উন্নয়ন মডেল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রশংসা অর্জন করেছে।
যশোর অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে আজাদুল কবির আরজুর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাঠপর্যায়ে কাজের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাঁকে একজন ব্যতিক্রমী উন্নয়নকর্মীতে পরিণত করেছিল। দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
তাঁর অসামান্য অবদান ও মানবিক সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে এসব অর্জনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা, বিনয়ী ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ। এই গুণাবলিই তাঁকে যশোরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় ও জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, আজাদুল কবির আরজুর কর্মময় জীবন ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের উন্নয়নকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মহান এই সমাজসেবকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

না ফেরার দেশে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আজাদুল কবির আরজু

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: বাংলাদেশের উন্নয়ন অঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যশোরসহ সারাদেশের উন্নয়নকর্মী, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজাদুল কবির আরজুর মৃত্যুতে যশোরের সামাজিক ও উন্নয়ন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৭৫ সালে একদল সমাজসচেতন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে যশোরে ‘জাগরণী চক্র’-এর যাত্রা শুরু করেন আজাদুল কবির আরজু। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর এই উদ্যোগ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সৎ ও মানবিক ব্যবস্থাপনার ফলে একটি ক্ষুদ্র সংগঠন পরিণত হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও সুসংগঠিত এনজিওতে।
গত প্রায় পাঁচ দশকে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, নারী ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা উন্নয়ন মডেল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রশংসা অর্জন করেছে।
যশোর অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে আজাদুল কবির আরজুর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাঠপর্যায়ে কাজের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাঁকে একজন ব্যতিক্রমী উন্নয়নকর্মীতে পরিণত করেছিল। দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
তাঁর অসামান্য অবদান ও মানবিক সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে এসব অর্জনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা, বিনয়ী ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ। এই গুণাবলিই তাঁকে যশোরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় ও জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, আজাদুল কবির আরজুর কর্মময় জীবন ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের উন্নয়নকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মহান এই সমাজসেবকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।