ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
দেশজুড়ে ভয় ও অস্থিরতা
নির্বাচনের আগে মানুষের নিরাপত্তা চাই

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৫ বার পঠিত

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা: আর মাত্র কিছুদিন পরেই দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়টা হওয়ার কথা ছিল শান্ত, স্বাভাবিক আর উৎসবের। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক তার উল্টো। এখন শহর হোক কিংবা গ্রাম—সব জায়গাতেই মানুষের মুখে একটাই কথা, “আমরা নিরাপদ নই।” চারদিকে খুন, মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি আর সন্ত্রাসের খবর। বিশেষ করে প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যা করার ঘটনা মানুষকে ভীষণভাবে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
আগে এমন ঘটনা শোনা যেত খুব কম। এখন দিনের আলোতে রাস্তার মোড়ে, বাজারে, বাড়ির সামনে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। অপরাধীরা কাউকে ভয় করছে না। সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছে না—কাকে বিশ্বাস করবে, কোথায় যাবে নিরাপত্তার জন্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এই সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও পরিচিত ব্যক্তিদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) যশোরের মণিরামপুরে সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার মাত্র এক দিন আগেই যশোর শহরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা করা হয়। ঢাকাতেও রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে।
বিশেষ করে তেজগাঁও এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচিত নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা, পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য।
এসব ঘটনা শুধু কয়েকজন মানুষের মৃত্যু নয়—এগুলো পুরো সমাজকে ভয় দেখানোর মতো ঘটনা।
গ্রামাঞ্চলেও অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দলীয় প্রভাব কিংবা আধিপত্য বিস্তারের জন্য এখন মানুষ খুন করতে দ্বিধা করছে না। আগে যেখানে লাঠিসোটা চলত, এখন সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ছোট ঘটনাও বড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।
এই অবস্থার পেছনে বড় কারণ হলো অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কালোবাজারে এখন খুব সহজেই পিস্তল, রিভলভারসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, দেশের ভেতরেই বোমা ও বিস্ফোরক তৈরি হচ্ছে। শরীয়তপুরের জাজিরায় সম্প্রতি একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু প্রমাণ করে—অবস্থা কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
অনেকে বলছেন, আগের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় থানাগুলো থেকে যে অস্ত্র লুট হয়েছিল, তার অনেকটাই এখনো উদ্ধার হয়নি। সেই অস্ত্রই আজ নানা সন্ত্রাসী ও অপরাধীর হাতে গিয়ে মানুষ মারার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন নতুন সন্ত্রাসী দল, যারা ভয় দেখিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে।
বর্তমানে সরকার যৌথ বাহিনীর অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করছে, এই অভিযান মাঠপর্যায়ে তেমন প্রভাব ফেলছে না। কারণ অভিযানের মাঝেও প্রতিদিন মানুষ খুন হচ্ছে।
সম্প্রতি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি বসতঘরে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে সহিংসতার ধরন আরও বিপজ্জনক দিকে মোড় নিচ্ছে।
ফলে মানুষের প্রশ্ন—আইন আসলে কার পক্ষে কাজ করছে?
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, গত বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার। নির্বাচনের বছর শুরুতেই যদি এমন অবস্থা থাকে, তাহলে সামনে কী অপেক্ষা করছে—এই প্রশ্ন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে কঠোরভাবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব দেখলে চলবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বাড়াতে হবে। তারা যেন ভয় বা চাপ ছাড়াই কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষকেও পাশে নিতে হবে, যাতে তারা ভয় না পেয়ে অপরাধের তথ্য দিতে পারে।
নির্বাচন মানে শুধু ভোট দেওয়া নয়। নির্বাচন মানে মানুষের মনে নিরাপত্তা আর আস্থা থাকা। মানুষ যদি ভয়ে থাকে, তাহলে সে ভোটকেন্দ্রে যাবে কীভাবে? উৎসবমুখর নির্বাচন তখন কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।
এখনই সময় শক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। মানুষের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানুষকে স্বস্তি দিতে না পারলে শুধু নির্বাচন নয়, পুরো সমাজই ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। সরকারকে এখনই প্রমাণ করতে হবে—এই দেশ এখনো আইনের শাসনেই চলে, সন্ত্রাসের শাসনে নয়।
লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা,
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।
মোবাইল: ০১৩০০৮৩২৮৬৮
আরও পড়ুন:
লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা














