ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
যশোর-৩ এবং যশোর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী
পিতা-পুত্রসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:১৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৭৪ বার পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের আরও দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও পিতা পুত্র সহ পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন যশোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। যশোর-৩ আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ছয়জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাই শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
এতে যশোর-৩ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী রাশেদ খান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রার্থী নিজাম উদ্দিন অমিত।
অপরদিকে যশোর-৪ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব, বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব ঢাকা ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সম্প্রতি ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখার কর্মকর্তারা তার প্রার্থিতা গ্রহণ না করার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন।
টিএস আইয়ুবের ছেলে ফারহান সাজিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন এবং নির্ধারিত এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর জমা দেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা যাচাই করে অসত্য তথ্য পাওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই নিজেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করায় এবং প্রয়োজনীয় দলীয় প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে না পারায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এতে যশোর-৪ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন এবং খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী।
যশোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, শুক্রবার যশোর-৩ ও যশোর-৪ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগের দিন দুই আসনে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। বাকি দুটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শনিবার সম্পন্ন করা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন এবং বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন করে এবং এবি পার্টি থেকে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এর আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৭১ জন প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন:














