
মৃণাল চৌধুরী সৈকত: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।
তিনি বলেন, আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে জোর গলায় বলতে পারি যে, দেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন-এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রাষ্ট্রপতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।
রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালে এটাকে ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, এরপর ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটাকে আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয়।
বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।
এসময় মঞ্চে ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।
অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে দেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 














