
এম.জে.এ মামুন:
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, সরকারি-বেসরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই প্রযুক্তির সুবিধা দেবিদ্বারবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের কৃতিসন্তান ও দুবাইপ্রবাসী ওয়েব ডেভেলপার মো. শাকিল আহমেদ।
দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি তৈরি করেছেন ‘আমাদের দেবিদ্বার’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ। দেবিদ্বারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তথ্য ও বিভিন্ন নাগরিকসেবাকে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অ্যাপটির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও দেবিদ্বার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে। স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতের তথ্য এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এতে।
বিশেষ করে দেবিদ্বারের বাইরে থাকা প্রবাসী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষও অ্যাপটির মাধ্যমে নিজ এলাকার সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ রাখতে পারবেন। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রয়োজনীয় সেবা ও নাগরিক সুবিধা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাপটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু তথ্য জানানো নয়, ভবিষ্যতে স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সময় ও শ্রম বাঁচানোর পাশাপাশি একই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দেবিদ্বার পেরিয়ে এবার পুরো কুমিল্লা
‘আমাদের দেবিদ্বার’ অ্যাপ তৈরির পর এবার আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করছেন শাকিল আহমেদ। তিনি বর্তমানে ‘আমার কুমিল্লা জেলা’ নামে আরও একটি অ্যাপ তৈরির কাজ করছেন।
প্রস্তাবিত অ্যাপটিতে কুমিল্লা জেলার ১৮টি উপজেলাকে পৃথকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, নাগরিকসেবা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
শাকিল আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমার কুমিল্লা জেলা’ অ্যাপটিতে আধুনিক ও নতুনধারার বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করার কাজ চলছে। ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপটিকে শুধু তথ্যভিত্তিক না রেখে আরও কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “দেবিদ্বার আমার জন্মস্থান। প্রবাসে থেকেও নিজের এলাকার জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ‘আমাদের দেবিদ্বার’ অ্যাপটি তৈরি করেছি। এখন পুরো কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই অ্যাপগুলো সাজানো হচ্ছে।”
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো একটি এলাকার তথ্য ও নাগরিকসেবাকে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা গেলে স্থানীয় মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হয়। বিশেষ করে প্রবাসী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী এলাকার মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেবিদ্বারের স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ‘আমাদের দেবিদ্বার’ অ্যাপটি নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় সেবা সংযোজনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ‘আমার কুমিল্লা জেলা’ অ্যাপটি চালু হলে জেলার ১৮টি উপজেলার মানুষও একই ধরনের সুবিধা পাবেন।
প্রবাসে থেকেও নিজ এলাকার মানুষের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর এমন উদ্যোগ নেওয়ায় মো. শাকিল আহমেদের এ প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দেবিদ্বারের সচেতন মহল। তাদের মতে, স্থানীয় মেধাবী তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর এমন উদ্যোগ আরও উৎসাহিত করা হলে ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 









