ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
চড়া মূল্যে ইজারার বলি সাধারণ ক্রেতা - বিক্রেতা

রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার খাজনা আদায় হচ্ছে ৮০০ টাকা, মনিটরিং টিমের কাছে অভিযোগের সত্যতা

নিজস্ব প্রতিনিধি:    রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার রুস্তমপুর পশুর হাট চড়া মূল্যে ইজারা নেওয়ার পর এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ওপর। লাভের আশায় সরকার নির্ধারিত খাজনার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকার পরিবর্তে গরু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৮০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ২০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। এতে নির্ধারিত খাজনার চেয়ে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, খাজনা আদায়ের সময় দেওয়া রশিদে টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আড়ানী পৌরসভার রুস্তমপুর পশুর হাটটি ২ কোটি ১০ হাজার টাকা মূল্যে ইজারা নিয়েছেন ইজারাদার শফিকুল ইসলাম ছানা। উচ্চমূল্যে ইজারা নেওয়ার পর সেই অর্থ পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রুস্তমপুর পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা খাজনা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইজারাদারের পক্ষের কলম নামের এক ব্যক্তি তার ব্যবহৃত (০১৭১৫-★★★★২৬)  নম্বর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা বলেন, বর্তমানে রুস্তমপুর পশুর হাটে ব্যাপক অরাজকতা চলছে। শুধু অতিরিক্ত খাজনা আদায়ই নয়, তাদের অনেকটা জিম্মি করে রাখা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজন চড়াও হন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, হাটে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ইজারাদারের লোকজন নিজেদের মতো করে খাজনা আদায় করছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, ইজারা দেওয়ার আগের খাশ আদায়ের ব্যবস্থাই তুলনামূলক ভালো ছিল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে জানা গেছে, প্রশাসনের কোন ভূমিকা না থাকায় পূর্বের ন্যায় গরু – ছাগল ক্রয় বিক্রয়ে দেদারসে অতিরিক্ত খাজনার টাকা আদায় করা হচ্ছে।
গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে রুস্তমপুর পশুর হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম ছানার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা।
তিনি বলেন, “গত বুধবার রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পৌরসভা থেকে একটি মনিটরিং টিম পাঠানো হয়েছিল। তারা সেখানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে খাজনা আদায় করা হবে বলে ইজারাদার পক্ষকে নিশ্চিত করা হয়েছে।”
নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা বলেন, “আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।”
ভুক্তভোগী ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত খাজনার অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তারা অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
11 October 2026

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর প্রবাসী ফয়সালের মৃত্যু

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

চড়া মূল্যে ইজারার বলি সাধারণ ক্রেতা - বিক্রেতা

রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার খাজনা আদায় হচ্ছে ৮০০ টাকা, মনিটরিং টিমের কাছে অভিযোগের সত্যতা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:২১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি:    রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার রুস্তমপুর পশুর হাট চড়া মূল্যে ইজারা নেওয়ার পর এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ওপর। লাভের আশায় সরকার নির্ধারিত খাজনার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকার পরিবর্তে গরু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৮০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ২০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। এতে নির্ধারিত খাজনার চেয়ে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, খাজনা আদায়ের সময় দেওয়া রশিদে টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আড়ানী পৌরসভার রুস্তমপুর পশুর হাটটি ২ কোটি ১০ হাজার টাকা মূল্যে ইজারা নিয়েছেন ইজারাদার শফিকুল ইসলাম ছানা। উচ্চমূল্যে ইজারা নেওয়ার পর সেই অর্থ পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রুস্তমপুর পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা খাজনা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইজারাদারের পক্ষের কলম নামের এক ব্যক্তি তার ব্যবহৃত (০১৭১৫-★★★★২৬)  নম্বর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা বলেন, বর্তমানে রুস্তমপুর পশুর হাটে ব্যাপক অরাজকতা চলছে। শুধু অতিরিক্ত খাজনা আদায়ই নয়, তাদের অনেকটা জিম্মি করে রাখা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজন চড়াও হন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, হাটে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ইজারাদারের লোকজন নিজেদের মতো করে খাজনা আদায় করছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, ইজারা দেওয়ার আগের খাশ আদায়ের ব্যবস্থাই তুলনামূলক ভালো ছিল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে জানা গেছে, প্রশাসনের কোন ভূমিকা না থাকায় পূর্বের ন্যায় গরু – ছাগল ক্রয় বিক্রয়ে দেদারসে অতিরিক্ত খাজনার টাকা আদায় করা হচ্ছে।
গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে রুস্তমপুর পশুর হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম ছানার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা।
তিনি বলেন, “গত বুধবার রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পৌরসভা থেকে একটি মনিটরিং টিম পাঠানো হয়েছিল। তারা সেখানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে খাজনা আদায় করা হবে বলে ইজারাদার পক্ষকে নিশ্চিত করা হয়েছে।”
নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা বলেন, “আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।”
ভুক্তভোগী ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত খাজনার অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তারা অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card