ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বিজয় দিবসে জামায়াতে ইসলামীর বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শ্রদ্ধা নিবেদন

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮ বার পঠিত
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যশোরের মণিরামপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক বিজয় র‍্যালী। ১৬ই ডিসেম্বর সকালে জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো এই র‍্যালী ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মণিরামপুর হয়ে ওঠে বিজয়ের চেতনায় মুখরিত।
দিবসটির কর্মসূচির শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মণিরামপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের এই পর্বে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও বিজয়ের ইতিহাস নতুন করে আলোড়ন তোলে।
এরপর শহীদ বেদী চত্বর থেকে শুরু হওয়া বিজয় র‍্যালীটি মণিরামপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার ও বিজয় দিবসের নানা শ্লোগানে মুখরিত র‍্যালীতে নেতৃত্ব দেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট গাজী এনামুল হক। র‍্যালী চলাকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা আয়োজনটির প্রতি জনসম্পৃক্ততার স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র‍্যালী শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম শামীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট গাজী এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, নায়েবে আমীর মাওলানা লিয়াকত আলী, সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবীব লিটন।
এছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, ডা. শরিফুল ইসলাম, আবু সালেহ মোহাম্মদ উবাইদুল্লাহ, মণিরামপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক আব্দুল বারী, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি আলী রেজা রাজুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় মর্যাদার এক অনন্য প্রতীক। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা তখনই প্রকৃত অর্থে সার্থক হবে, যখন দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে আদর্শভিত্তিক ও দায়িত্বশীল রাজনীতির বিকল্প নেই। তারা বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য বিজয় র‍্যালী ও আলোচনা সভা মণিরামপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিজয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করেছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিজয় দিবসে জামায়াতে ইসলামীর বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শ্রদ্ধা নিবেদন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যশোরের মণিরামপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক বিজয় র‍্যালী। ১৬ই ডিসেম্বর সকালে জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো এই র‍্যালী ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মণিরামপুর হয়ে ওঠে বিজয়ের চেতনায় মুখরিত।
দিবসটির কর্মসূচির শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মণিরামপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের এই পর্বে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও বিজয়ের ইতিহাস নতুন করে আলোড়ন তোলে।
এরপর শহীদ বেদী চত্বর থেকে শুরু হওয়া বিজয় র‍্যালীটি মণিরামপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার ও বিজয় দিবসের নানা শ্লোগানে মুখরিত র‍্যালীতে নেতৃত্ব দেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট গাজী এনামুল হক। র‍্যালী চলাকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা আয়োজনটির প্রতি জনসম্পৃক্ততার স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র‍্যালী শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম শামীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট গাজী এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, নায়েবে আমীর মাওলানা লিয়াকত আলী, সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবীব লিটন।
এছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, ডা. শরিফুল ইসলাম, আবু সালেহ মোহাম্মদ উবাইদুল্লাহ, মণিরামপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক আব্দুল বারী, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি আলী রেজা রাজুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় মর্যাদার এক অনন্য প্রতীক। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা তখনই প্রকৃত অর্থে সার্থক হবে, যখন দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে আদর্শভিত্তিক ও দায়িত্বশীল রাজনীতির বিকল্প নেই। তারা বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য বিজয় র‍্যালী ও আলোচনা সভা মণিরামপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিজয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করেছে।