ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
পতাকা ছাড়াই বিজয় দিবস, মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া আয়োজন
বিত্তিপাড়া বধ্যভূমিতে দায়সারা উদযাপন

উজ্জ্বল মাহমুদ :
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১ বার পঠিত

মহান বিজয় দিবসের মতো একটি জাতীয় দিবস কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক বিত্তিপাড়া বধ্যভূমিতে উদযাপিত হয়েছে কোনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াই। মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই, কোনো আলোচনা সভা বা স্মৃতিচারণা ছাড়া দায়সারা আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া ইবি থানা এলাকার উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিত্তিপাড়া বধ্যভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেখা যায় চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা। খুলনা বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণহত্যার স্মারক এই বধ্যভূমিতে যেখানে প্রতিবছর বিজয় দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করা হয়, সেখানে এবার আয়োজন সীমাবদ্ধ রাখা হয় কেবল একটি সংক্ষিপ্ত মোনাজাতে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ১৯৭১ সালের বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা। কোনো পূর্ব আমন্ত্রণ ছাড়াই স্থানীয় দুইজন মুক্তিযোদ্ধা সেখানে উপস্থিত হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন, সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী, উজানগ্রাম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আক্কাস আলী এবং ইউনিয়ন সচিব মো. মহিউদ্দিন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“১৯৭১ সালে বিত্তিপাড়া বধ্যভূমির বর্বরতার খবর ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি বাংলা সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। অথচ আজ সেই বধ্যভূমিতে বিজয় দিবসে পতাকা উঠল না, মুক্তিযুদ্ধের কথাও বলা হলো না—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার।”
আরেক মুক্তিযোদ্ধা বলেন,
“আমাদের আগে থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবছর আমরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতাম। মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে বিজয় দিবস পালন মানেই ইতিহাসকে অবমূল্যায়ন করা।”
স্থানীয় জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন, বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি দেশের অন্যতম বড় গণহত্যার স্মারক। সেখানে এমন দায়সারা আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আড়াল করার শামিল।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এ বিষয়ে উজানগ্রাম ইউনিয়ন সচিব মো. মহিউদ্দিন জানান, বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য তাকে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ১০ কেজি জিলাপি ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান খরচ চোখে পড়েনি।
উজানগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নূরসহ অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস এভাবে অবহেলার সঙ্গে পালন করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”
জনসাধারণের প্রশ্ন এখন একটাই—দেশের ইতিহাসবাহী একটি বধ্যভূমিতে যদি বিজয় দিবস এভাবে দায়িত্বহীনতার সঙ্গে পালিত হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করবে কে?
আরও পড়ুন:














