ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

মরমী সাধক লালন সাঁই এর ১৩৬ তম তিরোধান দিবস আজ

মোঃ মনিরুজ্জামানঃ
ফকির লালন শাহ বাংলার একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক, গীতিকার ও সুরকার ছিলেন। তিনি ১৭৭৪ সালের ২৪ অক্টোবর বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে কোথাও কোথাও তাঁকে ঝিনাইদহ বা যশোরের অধিবাসী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর জন্ম ও ধর্মপরিচয় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে, শৈশবে বা প্রারম্ভিক জীবনে তিনি গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন এবং একপর্যায়ে একটি চোখ হারান বলে জানা যায়। এ সময় পরিবার বা সমাজ কর্তৃক পরিত্যক্ত হলে মলম শাহ বা মলম কারিকর নামক এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করেন এবং সাঁইজি তারই আশ্রয়ে লালিত-পালিত হোন।

এক সময় তিনি আধ্যাত্মিক সাধক সিরাজ সাঁই-এর সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁকে গুরু হিসেবে মানতে থাকেন। সিরাজ সাঁইকে গুরু হিসেবে গ্রহণ করার পর লালন ছেউড়িয়ায় একটি আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয়ভাবে যেখানে প্রতিবছর তাঁর তিরোধান সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফকির লালনের দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভেদাভেদ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন গানে এখনো তা প্রতীয়মান। তাঁর গানে প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে মানবাত্মার সন্ধান ও মনের মানুষের উপাসনার কথা ফুটে উঠেছে। তিনি প্রায় সহস্রাধিক গান রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত গানের মধ্যে “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি” ও “সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে” এর মত অসংখ্য গান আছে । যেগুলো এখনো বেশ সমাদৃত। বাংলার জাতীয় উৎসবগুলোতে গানগুলো এখনো প্রাধান্য পায়। এছাড়া বাউল দর্শনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় তাঁর গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক স্তরের সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদরা লালনের দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

মরমী এ সাধক ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। এবার এই দিবসটি উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ- প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সাঁইজির আখড়ায় মেলার স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। লালন একাডেমি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ১৭ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব ও অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। গত ৭দিন থেকে ভক্তরা দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন। প্রতিবছর অনেক বিদেশি লালন ভক্ত এই মেলায় আসেন।

এছাড়া ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রথিতযশা লালনশিল্পী, শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী এবং জাসাসের শিল্পীদের লালনগীতি পরিবেশন করার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দিবসটিতে সরকারিভাবে ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও ফকির লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের ওপর বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
16 October 2026

চিরিরবন্দরে ৫ পিস টাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার-১; থানায় মামলা রুজু

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

মরমী সাধক লালন সাঁই এর ১৩৬ তম তিরোধান দিবস আজ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১০:৫০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামানঃ
ফকির লালন শাহ বাংলার একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক, গীতিকার ও সুরকার ছিলেন। তিনি ১৭৭৪ সালের ২৪ অক্টোবর বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে কোথাও কোথাও তাঁকে ঝিনাইদহ বা যশোরের অধিবাসী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর জন্ম ও ধর্মপরিচয় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে, শৈশবে বা প্রারম্ভিক জীবনে তিনি গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন এবং একপর্যায়ে একটি চোখ হারান বলে জানা যায়। এ সময় পরিবার বা সমাজ কর্তৃক পরিত্যক্ত হলে মলম শাহ বা মলম কারিকর নামক এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করেন এবং সাঁইজি তারই আশ্রয়ে লালিত-পালিত হোন।

এক সময় তিনি আধ্যাত্মিক সাধক সিরাজ সাঁই-এর সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁকে গুরু হিসেবে মানতে থাকেন। সিরাজ সাঁইকে গুরু হিসেবে গ্রহণ করার পর লালন ছেউড়িয়ায় একটি আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয়ভাবে যেখানে প্রতিবছর তাঁর তিরোধান সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফকির লালনের দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভেদাভেদ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন গানে এখনো তা প্রতীয়মান। তাঁর গানে প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে মানবাত্মার সন্ধান ও মনের মানুষের উপাসনার কথা ফুটে উঠেছে। তিনি প্রায় সহস্রাধিক গান রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত গানের মধ্যে “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি” ও “সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে” এর মত অসংখ্য গান আছে । যেগুলো এখনো বেশ সমাদৃত। বাংলার জাতীয় উৎসবগুলোতে গানগুলো এখনো প্রাধান্য পায়। এছাড়া বাউল দর্শনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় তাঁর গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক স্তরের সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদরা লালনের দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

মরমী এ সাধক ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। এবার এই দিবসটি উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ- প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সাঁইজির আখড়ায় মেলার স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। লালন একাডেমি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ১৭ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব ও অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। গত ৭দিন থেকে ভক্তরা দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন। প্রতিবছর অনেক বিদেশি লালন ভক্ত এই মেলায় আসেন।

এছাড়া ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রথিতযশা লালনশিল্পী, শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী এবং জাসাসের শিল্পীদের লালনগীতি পরিবেশন করার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দিবসটিতে সরকারিভাবে ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও ফকির লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের ওপর বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card