ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

শ্রীপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রকে অপহরণের মূল হোতা কাউসার আটক

মোঃ আল-আমিন 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৫৫ বার পঠিত
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলের সামনে থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে এক স্কুলছাত্রকে তুলে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে অস্ত্রধারীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্রকে তুলে নেওয়ার ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
 মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র ফেরদৌস (১৪) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।
অভিযুক্ত অস্ত্রধারী মো. কাওসার আহমেদ (৩০)। তিনি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। এ ছাড়া এমদাদুল হক, নূরুল হক, মোস্তফাসহ কয়েকজন স্কুলছাত্রকে তুলে নিতে সহযোগিতা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা একজন স্কুলছাত্রকে কয়েকজন যুবক মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুলশিক্ষক রুবেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে।
এ সময় টি-শার্ট পরা অস্ত্রধারী ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের শিক্ষক রুবেল হোসেনের দিকে পিস্তল তাক করে ভয় দেখান। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সহপাঠীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে।
নবম শ্রেণির ছাত্র হৃয়দ জানায়, ‘স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই আমরা বাইরে যাই। হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক এসে ফেরদৌসকে ধরে মারতে শুরু করে। এ সময় আমরা ডাকচিৎকার দিলে শিক্ষকেরা এগিয়ে আসেন। এরপর আমরা তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করি। হঠাৎ করে একজন রুবেল স্যারের দিকে পিস্তল তাক করে, এরপর সবাই ভয় পেয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করি।
হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ডাকচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে আমরা বাইরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পাই। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু অস্ত্রধারীরা বেশ কয়েকবার ফায়ার করার চেষ্টা করে। যে সামনে আসবে তাকেই শেষ করে দেব বলে তারা। এরপর আমরা পিছু হাঁটি। গুলির ভয়ে কেউ সামনে আসেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুনাহার বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা সবাই ছুটে যাই। কিন্তু অস্ত্র তাক করার পরপরই সবাই ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তবে কী কারণে স্কুলছাত্রকে তুলে নিল, এ বিষয়ে জানতে পারিনি। স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই স্কুলের গেট থেকে তাকে তুলে নেয়। অনেক মারধর করে। দুই ঘণ্টা পর অস্ত্রধারীরা ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়।
অপহৃত স্কুলছাত্রের মামা নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা সবাই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তুলে নেওয়ার পর থেকে অস্ত্রধারীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দুই ঘণ্টা পর আমাদের হাতে তুলে দেয়। তবে কী কারণে স্কুল ছাত্রকে তুলে নিল, সেটি জানতে পারিনি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছাত্রকে তুলে নেওয়ার ভিডিওটা দেখেছে, এরপর রাতেই বিশেষ অভিযানে উপজেলার জৈনা বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত কাউসারকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি, তবে কাওসারের সাথে যে অস্ত্রটি পাওয়া গিয়েছে সেটি আসল না, খেলনার পিস্তল, কিন্তু সাথে পাওয়া দুটি ওয়াকি-টকি আসল।জিজ্ঞাসাবাদে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসলে বাকি পদক্ষেপ খুব দ্রুত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

শ্রীপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রকে অপহরণের মূল হোতা কাউসার আটক

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলের সামনে থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে এক স্কুলছাত্রকে তুলে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে অস্ত্রধারীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্রকে তুলে নেওয়ার ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
 মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র ফেরদৌস (১৪) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।
অভিযুক্ত অস্ত্রধারী মো. কাওসার আহমেদ (৩০)। তিনি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। এ ছাড়া এমদাদুল হক, নূরুল হক, মোস্তফাসহ কয়েকজন স্কুলছাত্রকে তুলে নিতে সহযোগিতা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা একজন স্কুলছাত্রকে কয়েকজন যুবক মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুলশিক্ষক রুবেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে।
এ সময় টি-শার্ট পরা অস্ত্রধারী ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের শিক্ষক রুবেল হোসেনের দিকে পিস্তল তাক করে ভয় দেখান। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সহপাঠীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে।
নবম শ্রেণির ছাত্র হৃয়দ জানায়, ‘স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই আমরা বাইরে যাই। হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক এসে ফেরদৌসকে ধরে মারতে শুরু করে। এ সময় আমরা ডাকচিৎকার দিলে শিক্ষকেরা এগিয়ে আসেন। এরপর আমরা তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করি। হঠাৎ করে একজন রুবেল স্যারের দিকে পিস্তল তাক করে, এরপর সবাই ভয় পেয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করি।
হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ডাকচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে আমরা বাইরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পাই। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু অস্ত্রধারীরা বেশ কয়েকবার ফায়ার করার চেষ্টা করে। যে সামনে আসবে তাকেই শেষ করে দেব বলে তারা। এরপর আমরা পিছু হাঁটি। গুলির ভয়ে কেউ সামনে আসেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুনাহার বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা সবাই ছুটে যাই। কিন্তু অস্ত্র তাক করার পরপরই সবাই ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তবে কী কারণে স্কুলছাত্রকে তুলে নিল, এ বিষয়ে জানতে পারিনি। স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই স্কুলের গেট থেকে তাকে তুলে নেয়। অনেক মারধর করে। দুই ঘণ্টা পর অস্ত্রধারীরা ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়।
অপহৃত স্কুলছাত্রের মামা নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা সবাই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তুলে নেওয়ার পর থেকে অস্ত্রধারীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দুই ঘণ্টা পর আমাদের হাতে তুলে দেয়। তবে কী কারণে স্কুল ছাত্রকে তুলে নিল, সেটি জানতে পারিনি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছাত্রকে তুলে নেওয়ার ভিডিওটা দেখেছে, এরপর রাতেই বিশেষ অভিযানে উপজেলার জৈনা বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত কাউসারকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি, তবে কাওসারের সাথে যে অস্ত্রটি পাওয়া গিয়েছে সেটি আসল না, খেলনার পিস্তল, কিন্তু সাথে পাওয়া দুটি ওয়াকি-টকি আসল।জিজ্ঞাসাবাদে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসলে বাকি পদক্ষেপ খুব দ্রুত নেওয়া হবে।