ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সংসারের হাল ধরেছেন আখি, গোয়ালন্দ মোড়ে বাদামই তাঁর ভরসা

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি,
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / ১২৪ বার পঠিত
বাদাম রাখবেন বাদাম। সেই স্বাদ বাদামের। আপনারা বাদাম মিলে আমার ঘরের বাজারসহ চলবে অসুস্থ স্বামীর ওষুধের খরচ। এভাবে হাকডাক দিয়ে সড়কে, লোকাল বাসে, পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন ৪০ বছর বয়সের এক নারী।
এই মধ্য বয়সের নারী রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় বাসস্ট্যান্ডে ঝুড়িতে বাদাম বিক্রি করেন।
মধ্য বয়সের এই নারী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের এক পা পঙ্গু জমির শেকের স্ত্রী আঁখি বেগম ওরফে (ছবি ৪০)। তার স্বামী ছিলেন একজন সিএনজি চালক।গত ১০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার এক পা হারাতে হয়। এরপর আঁখি বেগমের সংসারে নেমে আসে অভাব নামের “কালো মেঘের ছায়া”।
এই দম্পতি রয়েছে এক ছেলে মোঃ রাকিব শেখ (১৮) ও এক মেয়ে মিম আক্তার (১৩)। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার খরচ ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ যোগাতে আখি আক্তার ওরফে ছবির নামতে হয় বাদাম বিক্রির ব্যবসায়। সংসারের অভাবের কারণে ছেলেকে পড়ালেখা করাতে পারেনি। তবে মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। স্বামীর অসুস্থর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জন কারী ব্যক্তি হলেন আঁখি বেগম ওরফে ছবি।
স্বামী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর থেকে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় ঘুরে ও বাসস্ট্যান্ডে বাদাম বিক্রি করছেন আঁখি বেগম। একাই পরিবার সামলান এবং বাদাম বিক্রি করার কাজ করছেন।
জানা যায়, গত ১০ বছর আগে তার স্বামী সিএনজি চালক সিএনজি চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো ছিল। হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাজানো সংসার ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। এরপরে পরিবারে যতটুক টাকা জমা ছিল সয় সম্বল যা ছিল স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে সব বিক্রি করতে হয়েছে।চিকিৎসার জন্য স্বামীর এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে এক পা হীন স্বামী বাড়িতে রয়েছে। এরপর স্বামীর এই বিপদে স্বামীকে ছেড়ে না যে স্বামীকে ভালো রাখতে নিজেই বাদাম বিক্রির কাজে লেগেছে আছি বেগম।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ জানান, অসুস্থ স্বামীকে আঁখি বেগম অনেক ভালবাসেন। তাদের বিবাহর পাঁচ বছর পরেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারাম আখি বেগমের স্বামী। বর্তমান পুরো সংসার চালাচ্ছেন এই সংগ্রামী বাদাম বিক্রেতা আঁখি বেগম।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক জানান, গোয়ালন্দ মোড় বাস স্ট্যান্ডে এক মহিলা বাদাম বিক্রি করেন সেটা অনেকবার শুনেছি। তবে তার পরিবার নিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়নি। আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা তাদেরকে দিব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সংসারের হাল ধরেছেন আখি, গোয়ালন্দ মোড়ে বাদামই তাঁর ভরসা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
বাদাম রাখবেন বাদাম। সেই স্বাদ বাদামের। আপনারা বাদাম মিলে আমার ঘরের বাজারসহ চলবে অসুস্থ স্বামীর ওষুধের খরচ। এভাবে হাকডাক দিয়ে সড়কে, লোকাল বাসে, পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন ৪০ বছর বয়সের এক নারী।
এই মধ্য বয়সের নারী রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় বাসস্ট্যান্ডে ঝুড়িতে বাদাম বিক্রি করেন।
মধ্য বয়সের এই নারী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের এক পা পঙ্গু জমির শেকের স্ত্রী আঁখি বেগম ওরফে (ছবি ৪০)। তার স্বামী ছিলেন একজন সিএনজি চালক।গত ১০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার এক পা হারাতে হয়। এরপর আঁখি বেগমের সংসারে নেমে আসে অভাব নামের “কালো মেঘের ছায়া”।
এই দম্পতি রয়েছে এক ছেলে মোঃ রাকিব শেখ (১৮) ও এক মেয়ে মিম আক্তার (১৩)। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার খরচ ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ যোগাতে আখি আক্তার ওরফে ছবির নামতে হয় বাদাম বিক্রির ব্যবসায়। সংসারের অভাবের কারণে ছেলেকে পড়ালেখা করাতে পারেনি। তবে মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। স্বামীর অসুস্থর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জন কারী ব্যক্তি হলেন আঁখি বেগম ওরফে ছবি।
স্বামী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর থেকে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় ঘুরে ও বাসস্ট্যান্ডে বাদাম বিক্রি করছেন আঁখি বেগম। একাই পরিবার সামলান এবং বাদাম বিক্রি করার কাজ করছেন।
জানা যায়, গত ১০ বছর আগে তার স্বামী সিএনজি চালক সিএনজি চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো ছিল। হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাজানো সংসার ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। এরপরে পরিবারে যতটুক টাকা জমা ছিল সয় সম্বল যা ছিল স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে সব বিক্রি করতে হয়েছে।চিকিৎসার জন্য স্বামীর এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে এক পা হীন স্বামী বাড়িতে রয়েছে। এরপর স্বামীর এই বিপদে স্বামীকে ছেড়ে না যে স্বামীকে ভালো রাখতে নিজেই বাদাম বিক্রির কাজে লেগেছে আছি বেগম।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ জানান, অসুস্থ স্বামীকে আঁখি বেগম অনেক ভালবাসেন। তাদের বিবাহর পাঁচ বছর পরেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারাম আখি বেগমের স্বামী। বর্তমান পুরো সংসার চালাচ্ছেন এই সংগ্রামী বাদাম বিক্রেতা আঁখি বেগম।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক জানান, গোয়ালন্দ মোড় বাস স্ট্যান্ডে এক মহিলা বাদাম বিক্রি করেন সেটা অনেকবার শুনেছি। তবে তার পরিবার নিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়নি। আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা তাদেরকে দিব।