ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
গ্রামীণ আবহ আর কারুপণ্যের সম্ভার নিয়ে চলছে বৈশাখী মেলা
সুন্দরবনের ইতিবৃত্ত

মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর( সাতক্ষীরা)
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
- / ৬০ বার পঠিত

বৃটিশ শাসন আমলে ১৮৭৪-৭৫ সালে সুন্রদরবন বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবে ঘোষনা করা হয।১৮৬৫ সালের বন আইনের ২ নং ধারা অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৫ তারিখে বর্তমান খুলনা এবং বাগেরহাট জেলাধিন সুন্দরবনের বনাঞ্চলকে রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১ আগস্ট ১৮৭৬ তারিখে বর্তমান সাতক্ষীরা জেলাধিন সুন্দরবনের বনাঞ্চলকে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করা হয়। ১৮৭৮ সালের বন আইনের ৩৪ নং ধারা মোতাবেক পূর্বে রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবে ঘোষিত খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা জেলাধীন সুন্দরবনের বনাঞ্চলের সীমানা ২৩ জানুয়ারি ১৮৭৯ তারিখে পুনঃনির্ধারণ পূর্বক গেজেট প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ ১৯১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে গেজেটের মাধ্যমে সুন্দরবনের রিজার্ভ ফরেস্টের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। ১৯৯৩ সালে পূর্ব সুন্দরবনসহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকার বনাঞ্চল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ‘প্লান্টেশন সার্কেল’ এর উপর অর্পিত হয। ১৯৯৩ সালে প্লান্টেশন সার্কেল দুই ভাগে বিভক্ত হয় এবং সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নবগঠিত ‘খুলনা সার্কেল’ এর উপর অর্পিত হয়। সেসময় সমগ্র সুন্দরবনের রিজার্ভ বনাঞ্চল ‘সুন্দরবন বিভাগ’ এর অধিনে ছিল। ২০০১ সালে তা বিভক্ত করে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ ও সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের সদর দপ্তর খুলনাতে এবং সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের সদর দপ্তর বাগেরহাটে অবস্থিত। বন সংরক্ষকের দপ্তর, খুলনা সার্কেল, বয়রা কর্তৃক উক্ত বনবিভাগ দুটির প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ হয়। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের আওতায় খুলনা রেঞ্জ ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ, ৯ টি ফরেস্ট স্টেশন এবং ২৮ টি পেট্রল ক্যাম্প আছে। পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ার ভাটার ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অাযতন প্রায় ১০.০০০ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় অবস্থিত। ব্রিটিশ ভারত বিভাগের পর বনের দুই-তৃতীয়াংশ পড়েছে বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতে। সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ ব.কিমি. বাংলাদেশে অবস্থিত, যার ৬৯% স্থলভাগ ও ৩১% জলভাগ। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধিন সুন্দরবনের মোট আয়তন ৩৫৭৩.২৮ ব. কিমি.৷ তন্মধ্যে খুলনা জেলা আওতাধিন সুন্দরবনের আয়তন ২০৭২.২৪ ব. কিমি.এবং বাকি অংশ সাতক্ষীরা জেলাধিন। সুন্দরবনকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কয়রেছে উজানের জলপ্রবাহ, লবণাক্ত সামুদ্রিক স্রোতধারা এবং কাদামাটির চর। সুন্দরবনের নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানান মত। সুন্দর দেখতে তাই সুন্দরবন বলা হয়। আবার সুন্দরী গাছের জন্য সুন্দরবন নাম করণ হয়েছে বরে অনেকের মত। এই বনভুমিতে লবণাক্ততার প্রভাব বেশি। বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ ও নানা বন্যপ্রাণীর সমন্নয়ে গড়ে উঠেছে এক অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্য। যা চিরসবুজ বন। সুনন্দবনে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে খলিসা উল্পেখযোগ্য কেননা, এই ফুলের মধু খুবই উত্তম। মৌয়ালদের পেশা মধু সংগ্রহ করা। তারা বন বিভাগের পারমিট নিয়ে বন থেকে মধু সংগ্রহ করে। সর্বশেষ জরিপের ফলাফলে জানা যায়, সুন্দরবনে ১১৪ টি বাঘ, ১,০০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ চিত্রা হরিণ, ২০,০০০টি বানর এবং ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০টি বন্য শুকর রয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন দেখতে হলে সড়কপথে ৬৫ কিলোমিটার যেয়ে মুন্সিগঞ্জ পৌঁছিলেই সুন্দরবন দেখা যাবে। আপনি মনে করলে মুন্সিগঞ্জ থেকে নীল ডুমুর যেয়েও বন বিভাগের অনুমতি পত্র নিয়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:

















