ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

তারেক রহমানের ভারত সফর, কী বললেন দীনেশ ত্রিবেদী

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার নিজের ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও জনবান্ধব ব্যক্তি। বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সফরের আগে দুটি শর্ত দেয়- শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। যদি আলোচনা শেষ হয়ে যায়, তাহলে ওইটা গণতন্ত্র না।’ তিনি আলোচনাকে গঙ্গা ও পদ্মার প্রবাহের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এই আলোচনা চলতেই থাকবে।’

দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে ত্রিবেদী জানান, তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কাছে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। স্পিকার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান হাইকমিশনার। বৈঠকে সংসদের ডিজিটাইজেশন ও ক্রীড়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য নির্দিষ্ট সময় কেউ ঠিক করে দিতে পারে না- এটা স্বাধীন দেশ।’ তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরা কোনো প্রতিবেশীকে উপেক্ষা করি না।’

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, তাদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানাই।’

পানিবণ্টন সমস্যাকে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে।’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের মানুষ যখন মারা যায়, আমরা কষ্ট পাই—সে হিন্দু কি মুসলমান, যেই হোক।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মর্যাদা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন চিফ হুইপ।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

মাদ্রাসা ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক

12 September 2026

ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন মাসের কর্মসূচি শুরু, রাসিকের বর্ণাঢ্য র‌্যালি

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

তারেক রহমানের ভারত সফর, কী বললেন দীনেশ ত্রিবেদী

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার নিজের ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও জনবান্ধব ব্যক্তি। বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সফরের আগে দুটি শর্ত দেয়- শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। যদি আলোচনা শেষ হয়ে যায়, তাহলে ওইটা গণতন্ত্র না।’ তিনি আলোচনাকে গঙ্গা ও পদ্মার প্রবাহের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এই আলোচনা চলতেই থাকবে।’

দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে ত্রিবেদী জানান, তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কাছে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। স্পিকার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান হাইকমিশনার। বৈঠকে সংসদের ডিজিটাইজেশন ও ক্রীড়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য নির্দিষ্ট সময় কেউ ঠিক করে দিতে পারে না- এটা স্বাধীন দেশ।’ তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরা কোনো প্রতিবেশীকে উপেক্ষা করি না।’

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, তাদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানাই।’

পানিবণ্টন সমস্যাকে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে।’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের মানুষ যখন মারা যায়, আমরা কষ্ট পাই—সে হিন্দু কি মুসলমান, যেই হোক।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মর্যাদা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন চিফ হুইপ।

Share this news as a Photo Card