
রাসেল রানা, রংপুর: রংপুর মহানগরীর পরশুরাম থানাধীন হারাটি মধ্যপাড়া এলাকায় খালের পানি সেচ ও কাদা ফেলা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে পাঁচ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুরে প্রতিবেশীরা বাড়ির পাশের একটি খালের পানি সেচ করে মাছ ধরার সময় উঠানের বেড়ার পাশে কাদা ফেলতে থাকে। এতে আফতাবুজ্জামানের স্ত্রী মোছা. মিতালী বেগম বাধা দিলে প্রতিপক্ষ মো. রশিদুল ইসলাম, মো. মাহাতাবুল, মোছা. ফারহানা ও মো. মাইদুল ইসলাম গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মিতালী বেগমকে বেধড়ক মারধর করে বাঁ পায়ে গুরুতর জখম করে এবং কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায়।
এ সময় তাঁকে বাঁচাতে ভাই মোতাসছেম বিল্লাহ ও মাজেদুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাঁদেরও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. আফতাবুজ্জামান বাদী হয়ে পরশুরাম থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগকারী আফতাবুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালে শয্যাশায়ী পরিবারকে নিয়ে তাঁরা বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। কিন্তু অভিযোগের ১২ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করেনি।
এ বিষয়ে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে থানা পুলিশ অবগত রয়েছে। বিষয়টি উভয় পক্ষকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তবে পুলিশের এ ধরনের জবাবে হতাশা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।

রাসেল রানা, রংপুর 


















