ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

আগাম টমেটো চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

নাঈম ইসলাম
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রচলিত চাষাবাদের ঝুঁকি এড়াতে আধুনিক ‘গ্রাফটিং’ (কলম) প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চফলনশীল ‘বারি-৮’ টমেটো চাষ করে সাফল্য ও লাভের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। রোগবালাই সহনশীল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাজারে গ্রীষ্মকালীন আগাম টমেটো সরবরাহ শুরু করছেন তারা।

ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ​কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি টমেটো-৮’ জাতটি মূলত অধিক ফলন, আকর্ষণীয় আকার এবং সুস্বাদু স্বাদের জন্য জনপ্রিয়। তবে বর্ষার শেষভাগে কাণ্ড পচা ও ঢলে পড়া (ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট) রোগের কারণে অনেক সময় টমেটো গাছ মারা যায়। এই সমস্যা সমাধানে বুনো বেগুন বা রোগপ্রতিরোধী রুটের ওপর বারি-৮ জাতের গ্রাফটিং চারা রোপণ করছেন চাষিরা। এতে গাছের মূল অংশ মাটির ক্ষতিকর জীবাণু থেকে মুক্ত থাকে এবং অতিবৃষ্টিতেও গাছ সতেজ থাকে।

​স্থানীয় টমেটো চাষি মো.আল-আমিন বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসারদের পরামর্শে ১৫শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন ১৫শ’ টমেটোর চারা রোপন করেছি। অলরেডি পাইকারি ১০০ টাকা কেজিতে ১৫হাজার বিক্রি করছি। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। আশা করি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।

ক্ষেত্র পরিদর্শনকালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনূর আলম ও মঈনুল ইসলাম জানান, আগাম বারি-৮ টমেটো চাষে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি যেমন কম, তেমনি ফলনেও আসে দ্বিগুণ লাভ। আধুনিক গ্রাফটিং প্রযুক্তি ও সার্বিক বালাই ব্যবস্থাপনায় চাষিদের নিরবচ্ছিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এলাকার অন্যান্য চাষিরাও গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে আগাম সবজি চাষে আরও আগ্রহী হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূইয়া জানান, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ কটিয়াদীতে এবারই প্রথম। নয়জন কৃষক দুই একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন এই আগাম টমেটো চাষ করেছে। এটি একটি লাভজনক ফসল। আগাম টমেটো চাষে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেও ১লাখ৫০ থেকে ৬০ হাজার বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
12 October 2026

দুপচাঁচিয়ায় ট্যাপেন্টাডল-সহ রনি নামের মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

আগাম টমেটো চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাঈম ইসলাম
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রচলিত চাষাবাদের ঝুঁকি এড়াতে আধুনিক ‘গ্রাফটিং’ (কলম) প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চফলনশীল ‘বারি-৮’ টমেটো চাষ করে সাফল্য ও লাভের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। রোগবালাই সহনশীল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাজারে গ্রীষ্মকালীন আগাম টমেটো সরবরাহ শুরু করছেন তারা।

ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ​কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি টমেটো-৮’ জাতটি মূলত অধিক ফলন, আকর্ষণীয় আকার এবং সুস্বাদু স্বাদের জন্য জনপ্রিয়। তবে বর্ষার শেষভাগে কাণ্ড পচা ও ঢলে পড়া (ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট) রোগের কারণে অনেক সময় টমেটো গাছ মারা যায়। এই সমস্যা সমাধানে বুনো বেগুন বা রোগপ্রতিরোধী রুটের ওপর বারি-৮ জাতের গ্রাফটিং চারা রোপণ করছেন চাষিরা। এতে গাছের মূল অংশ মাটির ক্ষতিকর জীবাণু থেকে মুক্ত থাকে এবং অতিবৃষ্টিতেও গাছ সতেজ থাকে।

​স্থানীয় টমেটো চাষি মো.আল-আমিন বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসারদের পরামর্শে ১৫শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন ১৫শ’ টমেটোর চারা রোপন করেছি। অলরেডি পাইকারি ১০০ টাকা কেজিতে ১৫হাজার বিক্রি করছি। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। আশা করি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।

ক্ষেত্র পরিদর্শনকালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনূর আলম ও মঈনুল ইসলাম জানান, আগাম বারি-৮ টমেটো চাষে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি যেমন কম, তেমনি ফলনেও আসে দ্বিগুণ লাভ। আধুনিক গ্রাফটিং প্রযুক্তি ও সার্বিক বালাই ব্যবস্থাপনায় চাষিদের নিরবচ্ছিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এলাকার অন্যান্য চাষিরাও গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে আগাম সবজি চাষে আরও আগ্রহী হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূইয়া জানান, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ কটিয়াদীতে এবারই প্রথম। নয়জন কৃষক দুই একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন এই আগাম টমেটো চাষ করেছে। এটি একটি লাভজনক ফসল। আগাম টমেটো চাষে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেও ১লাখ৫০ থেকে ৬০ হাজার বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

Share this news as a Photo Card