ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

এক গুচ্ছ কবিতা

মারুফ আহমেদ নয়ন
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২০৬ বার পঠিত
।১।
জয়পুরহাট
কাজান স্টেশনে বসে, দেখছি হাতের তালু। আমাকে নিয়ে ট্রেনটি ভ্লাদিভস্তকে বেরিয়ে পড়েছে। দেখছি, পাইনের টিলা ও নীল ফুলের চারণভূমি। তুমি খুলে বসো কথার আর্কাইভ। যেন ¯স্থাপত্য ও মসজিদের শহর, ইসফাহান। আমাদের ছিল শস্য ভরা মাঠে। সরোবরে মাছের তনুরি নৃত্য। দীর্ঘ ধানখেতের পাশে হাঁটলে মনে হতো—ক্যাম্পিগনা ন্যাশনাল পার্ক, ভ্রম হতো সবকিছু। ভুল করে এই স্টেশনকে জয়পুরহাট বলে ডাকি।
এঁকে-বেঁকে যাওয়া নদীর মতো এই রেলপথকে ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথ বলে ডাকি।
।২।
কফিন বিক্রেতার ভাবলিপি
আমি কল্পনাবিভোর যুবক। দাস-ব্যবসায়ীর
থেকে পালিয়ে এসেছি। নোকায়ে হ্রদে গড়েছি
জলবসতি, গ্যানভি। পিতা চেয়েছিল—পুত্র হবে
চিকিৎসক অথচ হয়ে উঠি সেতারবাদক।
যে রূপসীর কাছে ¯ি’র হয়েছে মন, তার সঙ্গে
পেতেছি ধূলোর সংসার। সে আমাকে শিখিয়েছে—
কফিন বিক্রেতার ভাবলিপি। ওক কাঠের কফিন
বানানো শিখেছি পির“ মিস্ত্রির কাছে। মস্তিষ্কের
অর্গানয়েড খুলে দেখেছি স্মৃতির মহাফেজখানা।
লেনোভোর চশমায় দেখেছি—তোমার ত্বকে
সংক্রামিত হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া। রয়েল ভল্টের
সাজানো কফিনে ঘুমিয়ে পড়ো। তোমার দেহে
ঝরে পড়ুক শুভ্র তুষার, গলিত সীসার ওম।
।৩।
তড়িৎ-আনন্দে
সূর্যশিশিরের বনে ঘুমিয়ে পড়েছি। পতঙ্গজন্মে
পুষ্পের লোভে পি”িছল আঠায় দিয়েছি প্রাণ।
আমাকে নিষেধ করেছিল পিপীলিকারা—
“ঐ কামুকী ফুলের কাছে যেও না, বালক।”
তুরীয় আহ্লাদে মেতে ভুলে গিয়েছি সবকিছু।
ফলশ্র“তিতে হরিণের মতো চোরাকাদায় নাচছি—
তাধিন-ধিন। আমার দিকে ছুটে আসছে চিতাবাঘ।
এমনই দুঃস্বপ্নে তোমার প্রেমে পড়েছিলাম—
যেন কুয়ায় পড়েছিলাম, আগুনে পুড়েছিলাম।
নিকটবর্তী হয়ে জেনেছি— তুমি পতঙ্গশিকারি
ফুল, জীবন্ত সমাধি। আমাকে গ্রহণ করো।
তোমার বিচ্ছেদে শরীরে ফুটছে লাভার স্রোত।
তোমাকে জড়িয়ে ধরি। জানি, বিপরীতধর্মী
দুটি চুম্বক একবার কাছে এসেছিল—
তড়িৎ-আনন্দে।
।৪।
হ্যালুসিনেশন
রাবার বনে হাঁটছি। গাছের চোখে অশ্র“ ঝরে।
তোমাকে মনে পড়লো। শুনি, নিজ হৃদস্পন্দন।
তোমার পদচারণার ধ্বনি। তোমার দেহের ঘ্রাণ
চিরচেনা যেন চিরতার ফুল। হ্যালুসিনেশন।
ব্রেসলেট মুদ্রায় ক্রয় করেছিলে ক্রীতদাসের মন।
কী আশ্চর্য! একটা কালো পাথরের প্রেমে পড়েছি।
যেন অগ্নিচুল্লিতে পড়েছি। সবক দিয়েছিলে তুমি,
জেন সন্ন্যাসীর এপিগ্রাফ। কিভাবে হাতের পুতুল
হয়ে উঠলাম। দেহে ছড়ালো সোনালি লোমের
বাহার। তোমাকে মুগ্ধ করা গেলে অপটিক্যাল
ইলিউশন সফল হতো। পাথর ঘষে জেনেছি
আগুনের উৎসমুখ। জেনেছি, মানুষের ত্বকে
ছিল তোমার ঢোল বাজানোর শখ।
।৫।
হত্যার আনন্দে
খরগোশটি দিয়েছে ধরা পাইথনের কাছে।
তাকে খুনের উল্লাসে দেহ প্রসারিত করছে সে।
স্বপ্ন—এতো খাদ্যশৃঙ্খল! যে নিঃসঙ্গ শেরপার
মতো মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে যা”িছ।
কোথায় তাঁবু টানাই? অক্সিজেন সংকটে..
তোমাকে ভালোবেসে টের পাই, ফুলে ফুলে
উড়ে বেড়ানো প্রজাপতিকে ইনসেক্টারিতে
রাখা অন্যায় হয়েছে। ক্ষয়ে গেছে পাখা।
অনাদরে তার মৃত্যু ঘটেছে। কেন মৃত্যুর
কথা মনে পড়লো পবিত্র উপত্যকায়—
চতুর্দিকে তুষারধস। কোথায় লুটিয়ে পড়ি!
সমগ্র পর্বতই তুমি, জীবন্ত সমাধিক্ষেত্র।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

এক গুচ্ছ কবিতা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
।১।
জয়পুরহাট
কাজান স্টেশনে বসে, দেখছি হাতের তালু। আমাকে নিয়ে ট্রেনটি ভ্লাদিভস্তকে বেরিয়ে পড়েছে। দেখছি, পাইনের টিলা ও নীল ফুলের চারণভূমি। তুমি খুলে বসো কথার আর্কাইভ। যেন ¯স্থাপত্য ও মসজিদের শহর, ইসফাহান। আমাদের ছিল শস্য ভরা মাঠে। সরোবরে মাছের তনুরি নৃত্য। দীর্ঘ ধানখেতের পাশে হাঁটলে মনে হতো—ক্যাম্পিগনা ন্যাশনাল পার্ক, ভ্রম হতো সবকিছু। ভুল করে এই স্টেশনকে জয়পুরহাট বলে ডাকি।
এঁকে-বেঁকে যাওয়া নদীর মতো এই রেলপথকে ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথ বলে ডাকি।
।২।
কফিন বিক্রেতার ভাবলিপি
আমি কল্পনাবিভোর যুবক। দাস-ব্যবসায়ীর
থেকে পালিয়ে এসেছি। নোকায়ে হ্রদে গড়েছি
জলবসতি, গ্যানভি। পিতা চেয়েছিল—পুত্র হবে
চিকিৎসক অথচ হয়ে উঠি সেতারবাদক।
যে রূপসীর কাছে ¯ি’র হয়েছে মন, তার সঙ্গে
পেতেছি ধূলোর সংসার। সে আমাকে শিখিয়েছে—
কফিন বিক্রেতার ভাবলিপি। ওক কাঠের কফিন
বানানো শিখেছি পির“ মিস্ত্রির কাছে। মস্তিষ্কের
অর্গানয়েড খুলে দেখেছি স্মৃতির মহাফেজখানা।
লেনোভোর চশমায় দেখেছি—তোমার ত্বকে
সংক্রামিত হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া। রয়েল ভল্টের
সাজানো কফিনে ঘুমিয়ে পড়ো। তোমার দেহে
ঝরে পড়ুক শুভ্র তুষার, গলিত সীসার ওম।
।৩।
তড়িৎ-আনন্দে
সূর্যশিশিরের বনে ঘুমিয়ে পড়েছি। পতঙ্গজন্মে
পুষ্পের লোভে পি”িছল আঠায় দিয়েছি প্রাণ।
আমাকে নিষেধ করেছিল পিপীলিকারা—
“ঐ কামুকী ফুলের কাছে যেও না, বালক।”
তুরীয় আহ্লাদে মেতে ভুলে গিয়েছি সবকিছু।
ফলশ্র“তিতে হরিণের মতো চোরাকাদায় নাচছি—
তাধিন-ধিন। আমার দিকে ছুটে আসছে চিতাবাঘ।
এমনই দুঃস্বপ্নে তোমার প্রেমে পড়েছিলাম—
যেন কুয়ায় পড়েছিলাম, আগুনে পুড়েছিলাম।
নিকটবর্তী হয়ে জেনেছি— তুমি পতঙ্গশিকারি
ফুল, জীবন্ত সমাধি। আমাকে গ্রহণ করো।
তোমার বিচ্ছেদে শরীরে ফুটছে লাভার স্রোত।
তোমাকে জড়িয়ে ধরি। জানি, বিপরীতধর্মী
দুটি চুম্বক একবার কাছে এসেছিল—
তড়িৎ-আনন্দে।
।৪।
হ্যালুসিনেশন
রাবার বনে হাঁটছি। গাছের চোখে অশ্র“ ঝরে।
তোমাকে মনে পড়লো। শুনি, নিজ হৃদস্পন্দন।
তোমার পদচারণার ধ্বনি। তোমার দেহের ঘ্রাণ
চিরচেনা যেন চিরতার ফুল। হ্যালুসিনেশন।
ব্রেসলেট মুদ্রায় ক্রয় করেছিলে ক্রীতদাসের মন।
কী আশ্চর্য! একটা কালো পাথরের প্রেমে পড়েছি।
যেন অগ্নিচুল্লিতে পড়েছি। সবক দিয়েছিলে তুমি,
জেন সন্ন্যাসীর এপিগ্রাফ। কিভাবে হাতের পুতুল
হয়ে উঠলাম। দেহে ছড়ালো সোনালি লোমের
বাহার। তোমাকে মুগ্ধ করা গেলে অপটিক্যাল
ইলিউশন সফল হতো। পাথর ঘষে জেনেছি
আগুনের উৎসমুখ। জেনেছি, মানুষের ত্বকে
ছিল তোমার ঢোল বাজানোর শখ।
।৫।
হত্যার আনন্দে
খরগোশটি দিয়েছে ধরা পাইথনের কাছে।
তাকে খুনের উল্লাসে দেহ প্রসারিত করছে সে।
স্বপ্ন—এতো খাদ্যশৃঙ্খল! যে নিঃসঙ্গ শেরপার
মতো মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে যা”িছ।
কোথায় তাঁবু টানাই? অক্সিজেন সংকটে..
তোমাকে ভালোবেসে টের পাই, ফুলে ফুলে
উড়ে বেড়ানো প্রজাপতিকে ইনসেক্টারিতে
রাখা অন্যায় হয়েছে। ক্ষয়ে গেছে পাখা।
অনাদরে তার মৃত্যু ঘটেছে। কেন মৃত্যুর
কথা মনে পড়লো পবিত্র উপত্যকায়—
চতুর্দিকে তুষারধস। কোথায় লুটিয়ে পড়ি!
সমগ্র পর্বতই তুমি, জীবন্ত সমাধিক্ষেত্র।