কটিয়াদীতে ৫শ বছরের প্রাচীন গোপীনাথের রথযাত্রা

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
- / ১১৫ বার পঠিত

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা। কটিয়াদীতেও শুক্রবার প্রথম রথযাত্রা শুরু হয় বিকাল ৪টায় এবং ৫ জুলাই শনিবার উল্টো রথযাত্রা হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপর নাম শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগোপীনাথ। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ভোগবেতাল গ্রামে অবস্থিত ঈশা খাঁ ও রাজা নবরঙ্গের ঐতিহাসিক হিন্দুধর্মীয় তীর্থস্থান শ্রীশ্রীগোপীনাথ মন্দির জেলার অন্যতম প্রত্নসম্পদ। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে কোটামন দিঘি ও বাউলসাগর নামের নদীতীর থেকে কৃষ্ণবর্ণের দুটি নিম কাঠের খণ্ড দিয়ে গোপীনাথ বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করে মন্দিরে স্থাপন করেন। এর সংস্কার করেন ঈশা খাঁ। এই জায়গাটির নাম ভোগবেতাল। নামটির জন্মদাতা ঈশা খাঁ। এই নিয়ে এলাকায় একটি কিংবদন্তি রয়েছে। ঈশা খাঁ তাঁর সৈন্যদের নিয়ে যখন এগারসিন্দুর দুর্গ থেকে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মন্দিরে ভোগ রান্না হচ্ছিল। এর গন্ধে ঈশা খাঁ সেখানে থেমে যান। সেই থেকে এই অঞ্চলের নাম ভোগবেতাল।
এখানে প্রতিবছর রথযাত্রা, বার্ষিক উৎসব, দোলপূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী, শিবরাত্রি, ঝুলনযাত্রা, বাসন্তীপূজাসহ নিত্য পূজা-পার্বণ হয়ে আসছে। গোপীনাথ মন্দিরে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান রথযাত্রা। ১৫৮৫ সালে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় এই মন্দিরে প্রথম শুরু করেন এই রথযাত্রা। কিংবদন্তিতে আছে, ‘উড়িষ্যার জগন্নাথ, বঙ্গের গোপীনাথ’। বলা হয়, প্রাচীন বাংলার সর্ববৃহৎ রথযাত্রা ছিল গোপীনাথের রথযাত্রা। গোপীনাথ মন্দির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল সড়কপথ দিয়ে ভক্তরা রথ টেনে নিয়ে যায় গুণ্ডিচাবাড়িতে (শ্বশুরবাড়ি)। আবার আট দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে। রথ ছিল তিনটি—একটি পিতলের, অন্য দুটি কাঠের তৈরি। আজও বাংলাদেশের মধ্যে এটিই দূরপাল্লার রথযাত্রা।
১৫৯৫ সালে এগারসিন্দুর দুর্গে ঈশা খাঁ সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কর্তৃক অবরুদ্ধ হন। জনশ্রুতি আছে, মল্লযুদ্ধে সেনাপতি মানসিংহ ঈশা খাঁর কাছে পরাজয় বরণ করেন। বিজয়ী সৈন্যরা বিজয় উল্লাস করেন রথমেলায়ু সুপ্রশস্ত রাস্তায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২৫ একর ৮ শতাংশ ভূমি রয়েছে। ১৩৪২ বঙ্গাব্দে রথটি ঝড়ে পতিত হলে এর সংস্কার করা হয়। ৩২ চাকার রথটি কালক্রমে ২৪ ও ১৬ চাকা হয়ে বর্তমানে ৯ চাকায় এসে ঠেকেছে।
পূজা উৎসব কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার সাহা বলেন, রথ যাত্রার এই উৎসব মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান হলেও এলাকায় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ রথযাত্রা উপভোগ করেন। প্রায় পাঁচশত বছরের পুরনো এই রথযাত্রা কিশোরগঞ্জ জেলাবাসীর কাছে বরাবরই সার্বজনীন উৎসব হয়ে ওঠে। কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচাজ তরিকুল ইসলাম বলেন, এ রথযাত্রা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক- সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


















