কাগজে-কলমে উন্নয়ন, বাস্তবে দুর্নীতি: কুমারখালীতে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৫২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ১০০ বার পঠিত

উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এডিপি ও রাজস্ব তহবিলে অন্তত ৯টি প্রকল্পে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ছয়টির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। বাকি তিনটির ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থ বা মালপত্রের হদিস মিলছে না।সরেজমিন অনুসন্ধান ও উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে জানা যায়, এসব প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দুর্নীতির মূল হোতা সদ্য বাতিল হওয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, যিনি বর্তমানে পলাতক।
এডিপির অর্থায়নে ‘সাথীসংঘ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকার কোনো কার্যক্রম নেই বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২২ বছর ধরে বন্ধ এবং তার জায়গায় বর্তমানে একটি চায়ের দোকান চলছে।অন্যদিকে, যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকার বিপরীতে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র দুটি ফুটবল। আর যদুবয়রা ইউনিয়নের ‘প্রত্যাশা ক্লাব ও পাঠাগার’ নামে ২০০৫ সাল থেকে বন্ধ থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কোনো সঠিক ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহানসহ স্থানীয়রা এসব দুর্নীতির কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ে পাঁচটি প্রকল্পের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “প্রকল্প যাচাইয়ের কাজ চলছে। অনিয়ম পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ৫০৩টি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের এই ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র স্থানীয় প্রশাসনসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও সতর্কবার্তা।





















