ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কালিগঞ্জে গৃহবধূ সুলতার মৃত্যু নিয়ে কাটছে না ধোয়াশা

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / ৭৪ বার পঠিত
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার মলাঙ্গায় গত মঙ্গলবার ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে ৬ মাসের সন্তান রেখে গৃহবধূ সুলতার আত্নহত্যা খবর পাওয়া যায় ৷ সুলতার পরিবারকে প্রথমে অসুস্থ পরে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় ৷ খবর শুনে সুলতার বাবা সুবোল বৈদ্য ৯৯৯ কল করে পুলিশকে জানান এবং সুলতার বাড়িতে হাজির হন৷ মেয়ের বিভৎস চেহারা দেখে ভেঙে পড়েন। এই পরিবেশে সুলতার শশুর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে ৷
সুলতার বাবা সুবোল বৈদ্যের ভাষ্যমতে ও তথ্যনুসন্ধ্যানে জানা গেছে,  ২০১৬ সালে কালিগঞ্জ উপজেলার মলাঙ্গা গ্রামের সত্যচরণ সরদারের ছেলে শশাঙ্ক ও শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের দিনমজুর সুবোল বৈদ্যের মেয়ে সুলতার সাথে হিন্দু সম্প্রদয়ের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়৷  বিয়ের সময় শশাঙ্ক একটি বাইক দাবি করেন ৷ সুবোল হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী ধুমধামের সাথে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেন এবং বাইকটি পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন ৷ এরপর বিভিন্ন দফায় শশাঙ্ক সুলতাকে দিয়ে তার বাবা সুবোলের কাছ থেকে টাকা নেয় ৷ সুলতা ও শশাঙ্কর দুই সন্তান। পুত্র হিমেল সরদার (৬) এবং ছোট পুত্র  প্রিয় (৬ মাস) ৷ সুলতার সংসার জীবন কাল হয়ে দাঁড়াল (যৌতুক) বাইক ৷ শুরু হয় সুলতার উপর অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন ৷ শশাঙ্কর বাবা সত্যচরণ কয়েকবার সুলতাকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখার বিষয়ও জবানবন্দি দিয়েছেন ৷
অপরদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে সুলতার ঝুলন্ত মরদেহের ছবি দেখে পর্যালোচনা করে ডাক্তারের মতে জানা গেছে, গলায়  রশি অথবা কাপড় পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করলে হাত অথবা পায়ের শিরা গুছিয়ে আসার ফলে হাত শক্ত মুঠ করে থাকে আর পায়ের বাঁকা পাতা সোজা হয়ে যায় ৷ অন্যদিকে ঘটনাস্থলে মৃতদেহ মাটিতে পা ছুয়ে আছে ৷ যা তার ফাঁসের কোন নমুনা দেখা যায় না ৷
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একজন এনজিও কর্মী কালীগঞ্জ পিরোজপুর মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে ক্রেডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে ৷ অফিসের একটি মেয়ের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি সুলতা জানতে পারে ৷ কিন্তু, সুলতাকে তওয়াক্কা না কারে তার সামনে কথা বলা বা সুলতাকে সময় না দেওয়া এবং যৌতুকের মানুষিক নির্যাতনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্যপক ঝগড়াঝাটি হওয়ার বিষয়ও জানা গেছে ৷
তবে সুলতাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা৷
শশাঙ্ক জানান, সুলতার গলায় ফাঁস দেওয়ার সময় সে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো ৷  কোন প্রকার ঝগড়াঝাটি বা মনোমালিন্য হয়নি ৷
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যদি তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কালিগঞ্জে গৃহবধূ সুলতার মৃত্যু নিয়ে কাটছে না ধোয়াশা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার মলাঙ্গায় গত মঙ্গলবার ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে ৬ মাসের সন্তান রেখে গৃহবধূ সুলতার আত্নহত্যা খবর পাওয়া যায় ৷ সুলতার পরিবারকে প্রথমে অসুস্থ পরে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় ৷ খবর শুনে সুলতার বাবা সুবোল বৈদ্য ৯৯৯ কল করে পুলিশকে জানান এবং সুলতার বাড়িতে হাজির হন৷ মেয়ের বিভৎস চেহারা দেখে ভেঙে পড়েন। এই পরিবেশে সুলতার শশুর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে ৷
সুলতার বাবা সুবোল বৈদ্যের ভাষ্যমতে ও তথ্যনুসন্ধ্যানে জানা গেছে,  ২০১৬ সালে কালিগঞ্জ উপজেলার মলাঙ্গা গ্রামের সত্যচরণ সরদারের ছেলে শশাঙ্ক ও শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের দিনমজুর সুবোল বৈদ্যের মেয়ে সুলতার সাথে হিন্দু সম্প্রদয়ের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়৷  বিয়ের সময় শশাঙ্ক একটি বাইক দাবি করেন ৷ সুবোল হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী ধুমধামের সাথে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেন এবং বাইকটি পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন ৷ এরপর বিভিন্ন দফায় শশাঙ্ক সুলতাকে দিয়ে তার বাবা সুবোলের কাছ থেকে টাকা নেয় ৷ সুলতা ও শশাঙ্কর দুই সন্তান। পুত্র হিমেল সরদার (৬) এবং ছোট পুত্র  প্রিয় (৬ মাস) ৷ সুলতার সংসার জীবন কাল হয়ে দাঁড়াল (যৌতুক) বাইক ৷ শুরু হয় সুলতার উপর অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন ৷ শশাঙ্কর বাবা সত্যচরণ কয়েকবার সুলতাকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখার বিষয়ও জবানবন্দি দিয়েছেন ৷
অপরদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে সুলতার ঝুলন্ত মরদেহের ছবি দেখে পর্যালোচনা করে ডাক্তারের মতে জানা গেছে, গলায়  রশি অথবা কাপড় পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করলে হাত অথবা পায়ের শিরা গুছিয়ে আসার ফলে হাত শক্ত মুঠ করে থাকে আর পায়ের বাঁকা পাতা সোজা হয়ে যায় ৷ অন্যদিকে ঘটনাস্থলে মৃতদেহ মাটিতে পা ছুয়ে আছে ৷ যা তার ফাঁসের কোন নমুনা দেখা যায় না ৷
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একজন এনজিও কর্মী কালীগঞ্জ পিরোজপুর মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে ক্রেডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে ৷ অফিসের একটি মেয়ের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি সুলতা জানতে পারে ৷ কিন্তু, সুলতাকে তওয়াক্কা না কারে তার সামনে কথা বলা বা সুলতাকে সময় না দেওয়া এবং যৌতুকের মানুষিক নির্যাতনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্যপক ঝগড়াঝাটি হওয়ার বিষয়ও জানা গেছে ৷
তবে সুলতাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা৷
শশাঙ্ক জানান, সুলতার গলায় ফাঁস দেওয়ার সময় সে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো ৷  কোন প্রকার ঝগড়াঝাটি বা মনোমালিন্য হয়নি ৷
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যদি তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।