ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
গ্রামীণ আবহ আর কারুপণ্যের সম্ভার নিয়ে চলছে বৈশাখী মেলা
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন
বরেণ্য গীতিকবি,সুরকার,লেখক ও সংগীত গুরু ইউনুস আলী মোল্লার
কুমিল্লা নগরীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

প্রতিবেদক
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:০০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
- / ৫৭ বার পঠিত

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কুমিল্লা : কুমিল্লা নগরীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীতে পানি সরবরাহের ৩২টি পাম্প স্টেশনের মধ্যে ১২টি পাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা পানির সংকটে দুর্বিষহ দিন পার করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য নগর কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে পালটা-পালটি বক্তব্য দিচ্ছে। তবে বাসিন্দাদের ভাষ্য, তারা প্রতি মাসে পানির বিল পরিশোধ করেও পানি পাচ্ছেন না। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পাম্প স্টেশন আছে, তবে মোটর বিকল। কোথাও মোটর আছে, পাইপ ও ফিল্টার নষ্ট। আবার কোথাও মাটির নিচের ফিল্টার ও পাইপ ফেটে গেছে। এমন চিত্র নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের ১২টি পাম্প স্টেশনের। বন্ধ পাম্প স্টেশনগুলো হচ্ছে- নগরীর ঠাকুরপাড়া, পুরাতন চৌধুরী পাড়া, কাপ্তানবাজার, বাদশা মিয়ার বাজার, রানীর দিঘিরপাড়, চকবাজার শাপলা মার্কেট, মুরাদপুর ভূঁইয়া পুকুরপাড়, সালমানপুর, জাঙ্গালিয়া বাস স্টেশন, রামপুর কোটবাড়ী, গোয়াল মথন ও দিশাবন্দ। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাম্প বিকল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করছেন, কিন্তু পানির সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করে অল্প পানি দিয়ে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে।
এদিকে পানির এমন সংকটের জন্য কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃপক্ষ দায় চাপাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ওপর। অন্য দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে, পাম্প স্টেশন হস্তান্তরের পর মেরামত ও দেখভালের দায়িত্ব তাদের নয়, কুসিক কর্তৃপক্ষের। কুসিক সূত্র জানায়, বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৮ লক্ষাধিক জনসংখ্যা। ২৬০ কিলোমিটার পাইপ লাইনে আবাসিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে পানির সংযোগের সংখ্যা আছে ৩ হাজার ২৯৯টি। কিন্তু পানি সরবরাহের ১২টি পাম্প স্টেশন দীর্ঘদিন বিকল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ আছে। এতে পানির চাহিদা দৈনিক প্রায় দুই কোটি লিটার থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। কুসিকের পানি বিভাগের তথ্য মতে, গত ২০২৩-’২৪ অর্থ বছরে পানি সরবরাহে আয় হয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৪১ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৮৯৩ টাকা। এছাড়া নগরীর কয়েকটি পাম্প স্টেশন এলাকায় গ্রাহক সংকট রয়েছে। এতে বন্ধ পাম্প মেরামত ও বিদ্যুৎ বিলও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কুসিকের সহকারী প্রকৌশলী (পানি) মো. ইউসুফ জানান, পাম্প স্টেশনগুলো মেরামতে সময়মতো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তা না পাওয়ায় কারণে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। তবে শিগিরই এগুলো মেরামত করা হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বলেন, ‘মেশিন ও মাটির নিচের ফিল্টারের সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। এগুলো সময়মতো মেরামত না করায় বিকল হয়ে পড়েছে। পাম্প স্টেশনগুলো হস্তান্তরের পর আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তবে কুসিক কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা শুধু করিগরি সহায়তা দিতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, ‘নগরীতে পানির চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই বিগত সময়ে মেঘনা নদী থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি এনে তা শোধন করে সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ প্রকল্পটি সমীক্ষা ও ডিজাইন পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে পানির সংকট কেটে যাবে।’
★ পানি সরবরাহের ৩২টি পাম্প স্টেশনের মধ্যে ১২টিই বিকল!
★ বিল পরিশোধ করেও পানি পাচ্ছে না নগরবাসী
আরও পড়ুন:

















