ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • / ১১৯ বার পঠিত

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতা এবং যুবলীগের একজন সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে রোববার (১৮ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তিনজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ওমর ফারুক (৪৭), পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু (৫৫) এবং পৌর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন (৪৬)।

 

কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্র জানায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। রাতেই তিনজনকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর পৃথক মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

 

কুষ্টিয়া আদালতের পরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনজনকেই আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মীর রেজাউল ইসলাম ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খাইরুজ্জামান জানান, রেজাউলের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে, শুনানির তারিখ পরে নির্ধারিত হবে।

 

অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় ওমর ফারুক ও আশরাফুজ্জামানকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মীর রেজাউল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড়ে বসবাস করেন। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা ও যানবাহনের স্ট্যান্ডের ওপর ছিল দখলদারিত্ব। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, শালিসের নামে অর্থ আদায়, এমনকি ভোটকেন্দ্র দখলের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

 

অপরদিকে, ওমর ফারুক খাজানগর এলাকায় অটোরাইসমিলের মালিক। রাজনৈতিকভাবে হঠাৎ করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদ লাভ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি এক রাতেই ‘শীর্ষ নেতা’তে রূপান্তরিত হন এবং বড় অংকের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিতি পান।

 

তৃতীয় গ্রেপ্তার ব্যক্তি আশরাফুজ্জামান সুজন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। এনআইডি জালিয়াতির আলোচিত মামলার অন্যতম আসামি তিনি। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি শহরের এনএস রোডে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগেও আলোচিত ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজী রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

 

এদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় কুষ্টিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতা এবং যুবলীগের একজন সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে রোববার (১৮ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তিনজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ওমর ফারুক (৪৭), পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু (৫৫) এবং পৌর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন (৪৬)।

 

কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্র জানায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। রাতেই তিনজনকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর পৃথক মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

 

কুষ্টিয়া আদালতের পরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনজনকেই আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মীর রেজাউল ইসলাম ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খাইরুজ্জামান জানান, রেজাউলের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে, শুনানির তারিখ পরে নির্ধারিত হবে।

 

অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় ওমর ফারুক ও আশরাফুজ্জামানকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মীর রেজাউল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড়ে বসবাস করেন। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা ও যানবাহনের স্ট্যান্ডের ওপর ছিল দখলদারিত্ব। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, শালিসের নামে অর্থ আদায়, এমনকি ভোটকেন্দ্র দখলের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

 

অপরদিকে, ওমর ফারুক খাজানগর এলাকায় অটোরাইসমিলের মালিক। রাজনৈতিকভাবে হঠাৎ করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদ লাভ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি এক রাতেই ‘শীর্ষ নেতা’তে রূপান্তরিত হন এবং বড় অংকের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিতি পান।

 

তৃতীয় গ্রেপ্তার ব্যক্তি আশরাফুজ্জামান সুজন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। এনআইডি জালিয়াতির আলোচিত মামলার অন্যতম আসামি তিনি। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি শহরের এনএস রোডে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগেও আলোচিত ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজী রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

 

এদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় কুষ্টিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।