ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
শীতেও ঘাম ঝরছে---

কৃষকের বোরো ধান চাষে বিপ্লব না-কি টিকে থাকার লড়াই

আবুল কালাম, ঝিনাইদহ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৮৫ বার পঠিত

আবুল কালাম, ঝিনাইদহ: পৌষের বিদায় আর মাঘের শুরু—প্রকৃতিতে যখন হাড়কাঁপানো শীতের দাপট, তখন ঝিনাইদহের কালীগঞজের মাঠগুলোতে বইছে ভিন্ন হাওয়া। কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর কাদা-জল উপেক্ষা করে সূর্য ওঠার আগেই মাঠে নেমে পড়ছেন হাজারো বোরো চাষি ও কৃষি শ্রমিক। কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠ এখন ধানের চারা রোপণের মহোৎসবে মুখর।

মাঠে ব্যস্ত সময় পার করা ৬নং ইউনিয়নের কৃষক হাফিজুর রহমানের কণ্ঠে ফুটে উঠল এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেন, “এখন আর আগের মতো লাভ নেই। এক বিঘা জমিতে চাষাবাদ, সার, সেচ, কীটনাশক থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত খরচ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ফলন হয় ২০-২২ মণ। বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে খরচ তোলাই দায় হয়ে পড়ে।”
কৃষকদের অভিযোগ, কঠোর পরিশ্রমে ফলানো ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে তারা সবসময়ই বাধার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে সাধারণ কৃষকদের চেয়ে প্রভাবশালীদের দাপট বেশি থাকায় সাধারণ চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনির দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৫৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৯০% জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান চলতি বছরে ৫০০ জন চাষিকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সরকারি প্রণোদনা।এবং সকল কৃষককে  জৈব সারের ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়।এছাড়া কৃষি প্রযুক্তি মেলা ও প্রদর্শনী কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা সাফল্যের কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কালুখালী গ্রামের কৃষক মুনসুর আলীর দাবি, “আমরা সাধারণ চাষিরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অধিকাংশ সুবিধা চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী চাষিদের পকেটে।”কালীগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে ছেয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। প্রতিকূল আবহাওয়া আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে লড়ে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের অকুতোভয় কৃষকরা। এখন দেখার বিষয়, ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে সরকার এই প্রান্তিক চাষিদের মুখে শেষ হাসি ফোটাতে পারে কি না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শীতেও ঘাম ঝরছে---

কৃষকের বোরো ধান চাষে বিপ্লব না-কি টিকে থাকার লড়াই

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আবুল কালাম, ঝিনাইদহ: পৌষের বিদায় আর মাঘের শুরু—প্রকৃতিতে যখন হাড়কাঁপানো শীতের দাপট, তখন ঝিনাইদহের কালীগঞজের মাঠগুলোতে বইছে ভিন্ন হাওয়া। কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর কাদা-জল উপেক্ষা করে সূর্য ওঠার আগেই মাঠে নেমে পড়ছেন হাজারো বোরো চাষি ও কৃষি শ্রমিক। কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠ এখন ধানের চারা রোপণের মহোৎসবে মুখর।

মাঠে ব্যস্ত সময় পার করা ৬নং ইউনিয়নের কৃষক হাফিজুর রহমানের কণ্ঠে ফুটে উঠল এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেন, “এখন আর আগের মতো লাভ নেই। এক বিঘা জমিতে চাষাবাদ, সার, সেচ, কীটনাশক থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত খরচ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ফলন হয় ২০-২২ মণ। বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে খরচ তোলাই দায় হয়ে পড়ে।”
কৃষকদের অভিযোগ, কঠোর পরিশ্রমে ফলানো ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে তারা সবসময়ই বাধার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে সাধারণ কৃষকদের চেয়ে প্রভাবশালীদের দাপট বেশি থাকায় সাধারণ চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনির দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৫৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৯০% জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান চলতি বছরে ৫০০ জন চাষিকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সরকারি প্রণোদনা।এবং সকল কৃষককে  জৈব সারের ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়।এছাড়া কৃষি প্রযুক্তি মেলা ও প্রদর্শনী কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা সাফল্যের কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কালুখালী গ্রামের কৃষক মুনসুর আলীর দাবি, “আমরা সাধারণ চাষিরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অধিকাংশ সুবিধা চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী চাষিদের পকেটে।”কালীগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে ছেয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। প্রতিকূল আবহাওয়া আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে লড়ে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের অকুতোভয় কৃষকরা। এখন দেখার বিষয়, ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে সরকার এই প্রান্তিক চাষিদের মুখে শেষ হাসি ফোটাতে পারে কি না।