ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলার মাঠ যেন ঠিকাদারের ভাটাখানা

রানু মিয়া, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / ১১৯ বার পঠিত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের হাতাশপুর এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী সংরক্ষণের অজুহাতে ঠিকাদার মোঃ খায়রুল কবির রানা (গুপ্তপাড়া, রংপুর) প্রায় এক বছর ধরে মাঠটি ব্যবহার করছেন। ফলে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা খেলাধুলার সুযোগ হারিয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, হাতাশপুরের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মাঠ। প্রতিদিন শত শত তরুণ-যুবক এখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলায় মেতে উঠত। কিন্তু বর্তমানে এটি কার্যত নির্মাণসামগ্রীর গুদামে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী যুবকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক তরুণ খেলোয়াড় মিরাজ ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকার একমাত্র খেলার জায়গা এটি। এখন এখানে শুধু নির্মাণসামগ্রী রাখা হচ্ছে, আমরা খেলতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” এলাকার প্রবীণরা মনে করেন, খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে তরুণদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বেতগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিন মারুফ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব, যাতে এলাকার যুবসমাজ আবার খেলাধুলার সুযোগ পায়।” এদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মজিদুল হক বলেন, “আমি ঠিকাদারকে বলেছি মালামাল সরানোর জন্য। এখন ঠিকাদার ও খেলোয়াড়রা বুঝবে।” গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাঠটি দখলমুক্ত করা হবে।” স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং হাতাশপুরের একমাত্র খেলার মাঠটি আবারও ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

খেলার মাঠ যেন ঠিকাদারের ভাটাখানা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের হাতাশপুর এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী সংরক্ষণের অজুহাতে ঠিকাদার মোঃ খায়রুল কবির রানা (গুপ্তপাড়া, রংপুর) প্রায় এক বছর ধরে মাঠটি ব্যবহার করছেন। ফলে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা খেলাধুলার সুযোগ হারিয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, হাতাশপুরের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মাঠ। প্রতিদিন শত শত তরুণ-যুবক এখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলায় মেতে উঠত। কিন্তু বর্তমানে এটি কার্যত নির্মাণসামগ্রীর গুদামে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী যুবকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক তরুণ খেলোয়াড় মিরাজ ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকার একমাত্র খেলার জায়গা এটি। এখন এখানে শুধু নির্মাণসামগ্রী রাখা হচ্ছে, আমরা খেলতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” এলাকার প্রবীণরা মনে করেন, খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে তরুণদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বেতগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিন মারুফ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব, যাতে এলাকার যুবসমাজ আবার খেলাধুলার সুযোগ পায়।” এদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মজিদুল হক বলেন, “আমি ঠিকাদারকে বলেছি মালামাল সরানোর জন্য। এখন ঠিকাদার ও খেলোয়াড়রা বুঝবে।” গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাঠটি দখলমুক্ত করা হবে।” স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং হাতাশপুরের একমাত্র খেলার মাঠটি আবারও ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।