ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
  • 🏠
  • জাতীয়
    • শীর্ষ খবর
    • রাজনীতি
    • বিবিধ
      • দুর্ভোগ-ভোগান্তি
      • আইন ও আদালত
      • খবর বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ
      • বিভাগীয় খবর
        • খুলনা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • ঢাকা বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
  • রূপসী বাংলা
  • বহির্বিশ্ব
  • খোলা জানালা
    • মুক্তমত
    • মহাশয়, জানেন তো ঘটনাটা!
    • ডাক হরকরা
    • পিয়াসের ডায়েরি থেকে …
    • প্রিয় মুখ
  • খেলার মাঠ
  • বিনোদন পাড়া
  • সাপ্তাহিক আয়োজন
    • অর্থনীতি ও বাণিজ্যের হালহকিকত
    • কর্ম-কর্মস্থল-কর্মসংস্থান
    • কৃষি ও কৃষক
    • গৃহিণীর রসুইঘর-ঘরসজ্জা
    • তথ্য-প্রযুক্তিতে বিজ্ঞান
    • ধর্ম-সংস্কৃতি ও ইতিহাস
    • নগর জীবন
    • ভ্রমণ ও পর্যটন
    • যাপিত জীবনে স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা-শিক্ষার্থী-শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য ভাবনা
  • নাগরিক টুকিটাকি
    • আমাদের সম্পর্কে জানুন
      • পরিবারের সহকর্মীবৃন্দ
      • নাগরিকে যুক্ত হতে নির্দেশনা
    • নাগরিক পরিচিতি
      • ই-নাগরিক ভাবনা
      • নাগরিক মাল্টিমিডিয়া
      • সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিক
      • নাগরিক মার্ট
      • নাগরিক শেল্টার
    • আরো দেখুন
      • এ্যান্ড্রয়ডে ডাউনলোড করুন ‘নাগরিক এ্যাপস’
      • লেখা পাঠান নাগরিকে
  • ই-নাগরিক ভাবনা
  • নাগরিক মাল্টিমিডিয়া
  • নাগরিক পরিবার
  • প্রতিনিধি হতে নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
  • 🏠
  • ঢাকা বিভাগ, ধর্ম-সংস্কৃতি ও ইতিহাস, রূপসী বাংলা
  • গোলয়া পাগল নাথের মেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন

গোলয়া পাগল নাথের মেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন

  • অরবিন্দ রায়
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত

অরবিন্দ রায়:    ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস আর  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন গোলয়া পাগল নাথের মেলা। যুগের পর যুগ ধরে  এ মেলাকে ঘিরে জেগে ওঠে মানুষের আবেগ, ভক্তি ও ভালোবাসা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা মেলার আয়োজন শুধু একটা ধর্মীয় মেলার নয়, গ্রামীন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন ও ঐতিহ্যের জীবন প্রতিচ্ছবি।

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা গোলয়া গ্রামে  পাগল নাথের মেলার উল্লেখযোগ্য  দিক হলো মানুষ মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। ধর্ম – বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এ আয়োজনে মানুষের মিলন ঘটে। স্হানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর – দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও মেলার আনন্দে অংশ গ্রহণ করেন।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাগল নাথের এ মেলা চলে আসছে।  গোলয়া গ্রামের ইতিহাস ও  ঐতিহ্যের  ১৬৪ তম পাগল নাথের মেলা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার  দিনব্যাপী গোলয়া দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গনে এ মেলা  সম্প্রীতির বন্ধন  অনুষ্ঠিত হয় ।  পালল নাথের মেলা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী  মেলা গুলোর একটি। পাগল নাথের মেলা আমাদের লোক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এ মেলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মনে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবতার বার্তা দিয়ে আসে ।শত শত মানুষের আগমনে পাগল নাথের মেলা হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

এক সময় বাংলাদেশের  যোগাযোগ ব্যবস্হা, চিকিৎসা ব্যবস্হা, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্হা ও জীবন যাএা উন্নত ছিল না। দেশে
দেশের বেশির ভাগ মানুষ ছিল কৃষি নির্ভর। গ্রামীন জনগোষ্টী মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। কার্তিক মাস থেকে হালকা শীত পড়া শুরু করে । কার্তিক মাসের পর থেকে শীত বাড়তে থাকে । তখন  আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি দেখা দিত। যেহেতু তখনকার সময় চিকিৎসা সেবা উন্নত ছিল না সেই কারনে মানুষ রোগ ব্যাধি থেকে বাঁচতে বিভিন্ন নিয়ম কানুন পালন করত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেক মানুষ মাছ মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকত।
আজ থেকে ১ শত ৬৪  বছর আগে চিকিৎসা ব্যবস্হা উন্নত ছিল না। কার্তিক মাস থেকে শুরু করে শীতের দিনে বিভিন্ন রোগে  মানুষ মারা যেত বেশি। তাই গোলয়া গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করতো বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে পাগল নাথের মেলা শুরু করে। এ গ্রামের বংশক্রমানুসারে মানুষ পাগল নাথের মেলা পালন করে আসছেন।
প্রতি বছর কার্তিক মাসে ১ তারিখ থেকে  ৭ তারিখ  পর্যন্ত   গোলয়া  গ্রামের মানুষ নিরামিষ খেয়ে থাকে।  প্রতিরাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে  গ্রামের মানুষ নাম কীর্তন করে থাকে । সপ্তম দিন সারাদিন কীর্তন,  পাগল নাথ গান ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয় ।

  ড. চিওরঞ্জন রায় জানান, এক সময় গোলয়া গ্রামের  প্রধান উৎসব ছিল পাগল নাথের মেলা। এ মেলায় ছোট বেলা  থেকে দেখে আসছি । এ মেলা গোলয়া গ্রামের সম্প্রীতির এক অপূর্ব বন্ধন। আমরা  পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য  আজও রক্ষা করে চলেছি।  গ্রামে এখন দুর্গাপূজা, অষ্টপ্রহর, স্বরস্বতী পূজা সহ বিভিন্ন উৎসব পালন করা হয়। আধুনিকতার ছোঁয়া এ গ্রামেও লেগেছে। পূর্ব পুরুষদের বিশ্বাস কে ধরে রেখে আজও আমরা  প্রতি বছর পাগল নাথে উৎসব পালন করে থাকি ।

কিশোর কুমার রায়  জানান, পাগল নাথের মেলা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এ মেলা আত্নীয় – স্বজন  ও পরিচিতদের মিলন মেলা।
শিক্ষক খুশীমোহন রায় জানান,পাগল নাথের মেলায় মনের প্রশান্তি অনুভব করি। বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে প্রতি বছর মেলার জন্য অপেক্ষা করি।  পাগল নাথ আমাদের সকল দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। তাই আমাদের মনের গভীরে বিশ্বাসে পাগল নাথ আছে।

কালের বিবর্তনে সাথে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। আধুনিক যুগে ওয়ানটাইম প্লেট, গ্লাস সহ বিভিন্ন জিনিসপএ  বের হয়েছে।  তারপরও  পাগল নাথের প্রসাদ  কলা পাতায় প্রসাদ  বিতরণ করে ঐতিহ্য রক্ষা করা হচ্ছে। ভক্তদের মাঝে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে প্রসাদ বিতরনের জন্য সবুজ রায়, আকাশ রায়, স্বপন রায়, তপন রায়, ভবেন রায়, রাজন রায়, কনক রায়, তাপস রায় সহ ৫০ সদস্য বিশিষ্ট প্রসাদ বিতরন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাগল নাথের মেলার দিন স্হানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এসে সনাতন ধর্মের মানুষের সাথে মতবিনিময় করতে আসেন । এলাকায় সকল ধর্মের মানুষের উপস্হিতিতে মেলা হয়ে উঠে উৎসবমুখর। এ মেলা সম্প্রীতির রক্ষার এক অনন্য  মিলন বন্ধন। এ মেলাকে ঘিরে আশে পাশের  এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। গোলয়া গ্রামে বিরাজ করছে আনন্দমুখর পরিবেশ।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গোলয়া পাগল নাথের মেলা আজও মানুষের অংশগ্রহণ ও ভালোবাসায় টিকে আছে। স্হানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে এ ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছেও তুলে ধরা হবে। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে গোলয়া পাগল নাথের মেলা আজও মানুষের বিশ্বাস, আবেগ ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে আছে। ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করে এ মেলা যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় – ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সেতু বন্ধন গড়ে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
সম্পর্কিত খবর : অরবিন্দ রায়
এ জাতীয় আরও খবর

নীলফামারীতে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, সংঘর্ষে একজন নিহত

এলাকাবাসীর টমটম উপহার: নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ‘পা’ হারানো জেলে বদিউল আলম

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

রাজধানী হকারমুক্ত হবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-ফুটপাত: সড়কমন্ত্রী

রাজশাহীতে হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি বেলাল হোসেন গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জনপ্রিয়

মধ্যরাতে এসিল্যান্ডের বাসায় নামজারির ফাইল নিয়ে নাইটগার্ড 

রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার খাজনা আদায় হচ্ছে ৮০০ টাকা, মনিটরিং টিমের কাছে অভিযোগের সত্যতা

চৌদ্দ বছরে চৌদ্দ ফুটের দুর্গা, ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় প্রতিমার দাবি উযুসের

দুবাই প্রবাসী শাকিলের হাত ধরে ডিজিটাল সেবায় নতুন দিগন্ত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নাঙ্গলকোট উপজেলা সমিতি চট্টগ্রাম এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ

নীলফামারীতে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, সংঘর্ষে একজন নিহত

এলাকাবাসীর টমটম উপহার: নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ‘পা’ হারানো জেলে বদিউল আলম

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

আগামী অর্থবছরের মধ্যে বদলে যাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানী হকারমুক্ত হবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-ফুটপাত: সড়কমন্ত্রী

দৈনিক নাগরিক ভাবনা
শেখ রিফান আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
উপদেষ্টা সম্পাদক: সৈয়দ সফি উপদেষ্টা ও প্রকাশক: আফরোজা সিদ্দিকা
দৈনিক নাগরিক ভাবনা
🏠 ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ☎️ 09649-230220 || 📱 01915-708187 || ✉️ info.nagorikvabna@gmail.com || 🌐 NagorikBhabna.com || ⓕ ◎ 𝕏 ▶️ @NagorikBhabna

গোলয়া পাগল নাথের মেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

অরবিন্দ রায়:    ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস আর  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন গোলয়া পাগল নাথের মেলা। যুগের পর যুগ ধরে  এ মেলাকে ঘিরে জেগে ওঠে মানুষের আবেগ, ভক্তি ও ভালোবাসা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা মেলার আয়োজন শুধু একটা ধর্মীয় মেলার নয়, গ্রামীন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন ও ঐতিহ্যের জীবন প্রতিচ্ছবি।

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা গোলয়া গ্রামে  পাগল নাথের মেলার উল্লেখযোগ্য  দিক হলো মানুষ মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। ধর্ম – বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এ আয়োজনে মানুষের মিলন ঘটে। স্হানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর – দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও মেলার আনন্দে অংশ গ্রহণ করেন।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাগল নাথের এ মেলা চলে আসছে।  গোলয়া গ্রামের ইতিহাস ও  ঐতিহ্যের  ১৬৪ তম পাগল নাথের মেলা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার  দিনব্যাপী গোলয়া দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গনে এ মেলা  সম্প্রীতির বন্ধন  অনুষ্ঠিত হয় ।  পালল নাথের মেলা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী  মেলা গুলোর একটি। পাগল নাথের মেলা আমাদের লোক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এ মেলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মনে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবতার বার্তা দিয়ে আসে ।শত শত মানুষের আগমনে পাগল নাথের মেলা হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

এক সময় বাংলাদেশের  যোগাযোগ ব্যবস্হা, চিকিৎসা ব্যবস্হা, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্হা ও জীবন যাএা উন্নত ছিল না। দেশে
দেশের বেশির ভাগ মানুষ ছিল কৃষি নির্ভর। গ্রামীন জনগোষ্টী মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। কার্তিক মাস থেকে হালকা শীত পড়া শুরু করে । কার্তিক মাসের পর থেকে শীত বাড়তে থাকে । তখন  আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি দেখা দিত। যেহেতু তখনকার সময় চিকিৎসা সেবা উন্নত ছিল না সেই কারনে মানুষ রোগ ব্যাধি থেকে বাঁচতে বিভিন্ন নিয়ম কানুন পালন করত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেক মানুষ মাছ মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকত।
আজ থেকে ১ শত ৬৪  বছর আগে চিকিৎসা ব্যবস্হা উন্নত ছিল না। কার্তিক মাস থেকে শুরু করে শীতের দিনে বিভিন্ন রোগে  মানুষ মারা যেত বেশি। তাই গোলয়া গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করতো বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে পাগল নাথের মেলা শুরু করে। এ গ্রামের বংশক্রমানুসারে মানুষ পাগল নাথের মেলা পালন করে আসছেন।
প্রতি বছর কার্তিক মাসে ১ তারিখ থেকে  ৭ তারিখ  পর্যন্ত   গোলয়া  গ্রামের মানুষ নিরামিষ খেয়ে থাকে।  প্রতিরাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে  গ্রামের মানুষ নাম কীর্তন করে থাকে । সপ্তম দিন সারাদিন কীর্তন,  পাগল নাথ গান ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয় ।

  ড. চিওরঞ্জন রায় জানান, এক সময় গোলয়া গ্রামের  প্রধান উৎসব ছিল পাগল নাথের মেলা। এ মেলায় ছোট বেলা  থেকে দেখে আসছি । এ মেলা গোলয়া গ্রামের সম্প্রীতির এক অপূর্ব বন্ধন। আমরা  পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য  আজও রক্ষা করে চলেছি।  গ্রামে এখন দুর্গাপূজা, অষ্টপ্রহর, স্বরস্বতী পূজা সহ বিভিন্ন উৎসব পালন করা হয়। আধুনিকতার ছোঁয়া এ গ্রামেও লেগেছে। পূর্ব পুরুষদের বিশ্বাস কে ধরে রেখে আজও আমরা  প্রতি বছর পাগল নাথে উৎসব পালন করে থাকি ।

কিশোর কুমার রায়  জানান, পাগল নাথের মেলা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এ মেলা আত্নীয় – স্বজন  ও পরিচিতদের মিলন মেলা।
শিক্ষক খুশীমোহন রায় জানান,পাগল নাথের মেলায় মনের প্রশান্তি অনুভব করি। বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে প্রতি বছর মেলার জন্য অপেক্ষা করি।  পাগল নাথ আমাদের সকল দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। তাই আমাদের মনের গভীরে বিশ্বাসে পাগল নাথ আছে।

কালের বিবর্তনে সাথে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। আধুনিক যুগে ওয়ানটাইম প্লেট, গ্লাস সহ বিভিন্ন জিনিসপএ  বের হয়েছে।  তারপরও  পাগল নাথের প্রসাদ  কলা পাতায় প্রসাদ  বিতরণ করে ঐতিহ্য রক্ষা করা হচ্ছে। ভক্তদের মাঝে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে প্রসাদ বিতরনের জন্য সবুজ রায়, আকাশ রায়, স্বপন রায়, তপন রায়, ভবেন রায়, রাজন রায়, কনক রায়, তাপস রায় সহ ৫০ সদস্য বিশিষ্ট প্রসাদ বিতরন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাগল নাথের মেলার দিন স্হানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এসে সনাতন ধর্মের মানুষের সাথে মতবিনিময় করতে আসেন । এলাকায় সকল ধর্মের মানুষের উপস্হিতিতে মেলা হয়ে উঠে উৎসবমুখর। এ মেলা সম্প্রীতির রক্ষার এক অনন্য  মিলন বন্ধন। এ মেলাকে ঘিরে আশে পাশের  এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। গোলয়া গ্রামে বিরাজ করছে আনন্দমুখর পরিবেশ।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গোলয়া পাগল নাথের মেলা আজও মানুষের অংশগ্রহণ ও ভালোবাসায় টিকে আছে। স্হানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে এ ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছেও তুলে ধরা হবে। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে গোলয়া পাগল নাথের মেলা আজও মানুষের বিশ্বাস, আবেগ ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে আছে। ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করে এ মেলা যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় – ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সেতু বন্ধন গড়ে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
শেখ রিফান আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
উপদেষ্টা সম্পাদক: সৈয়দ সফি উপদেষ্টা ও প্রকাশক: আফরোজা সিদ্দিকা