
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা): কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশে পূজকরা গ্রামে অবস্থিত আল মামুন কনজিউমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এর “গ্রেভিয়া ব্র্যান্ড” কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে বৃহস্পতিবার শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
হামলার ঘটনায় শুক্রবার সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে আল মামুন কনজিউমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন। হামলাকারীরা কারখানার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, নগদ প্রায় ৬৬ লাখ টাকা, কোম্পানির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত ৩টি ব্যাংক চেক, চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, সাতটি ল্যাপটপ, নয়টি ট্যাব, ১৩টি মোবাইল ফোন এবং গ্রেভিয়া ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য লুট করে নিয়ে যায় এবং কারখানার বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন কর্তৃপক্ষ। হামলায় আল মামুন কনজিউমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এর কর্মকর্তা কর্মচারী-সহ পূজকরা গ্রামের ৩০জন আহত হয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের লিটন, তুহিন, রাতুলের নেতৃত্বে এ সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আল মামুন কনজিউমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ জেনারেল ম্যানেজার হামলায় আহত কামরুল হাসান মাসুম, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম, পূজকরা গ্রামের আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুর রহমান মনা, মোহাম্মদ খোকন ও জাহাঙ্গীর আলম।
মানববন্ধনে আল মামুন কনজিউমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এর “গ্রেভিয়া ব্র্যান্ড” কারখানা পরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয়রা বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে হাতিমারা গ্রামের শতাধিক সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানায় প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা, বিভিন্ন স্থাপনা ও মালামাল ব্যাপক ভাঙচুর, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায়। তাদের অভিযোগ, কারখানা থেকে হামলাকারীরা নগদ প্রায় ৬৬ লাখ টাকা, চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, সাতটি ল্যাপটপ, নয়টি ট্যাব, ১৩টি মোবাইল ফোন এবং গ্রেভিয়া ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যায়। এতে কোম্পানীর প্রায় ১কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বক্তারা এ ঘটনার তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একই সময়ে কারখানার আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানেও হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুজকরা গ্রামের এক ফল বিক্রেতার কটুকথাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায়-দফায় সংঘর্ষে আল মামুন কনজিউমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী-সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শুক্রবারও সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিনূর ইসলাম বলেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কোম্পানীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) 










