
চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর চাটখিলে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) এর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অনেক প্রকল্পের সামান্য কাজ করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি’র (বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প) হতে অন্যান্য উপজেলার ন্যায় চাটখিল উপজেলাতেও সরকারি বরাদ্দ পেয়েছে ৯০ লক্ষ টাকা। এই টাকা দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৭টি প্রকল্প করা হয়। এ কাজগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাম মাত্র কাজ এবং অনিয়মের মাধ্যমে এক পরিবারের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করে প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে অনেক প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাটখিল প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিকদের একটি টিম অনেকগুলো প্রকল্প ঘুরে এসে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ ফুট ব্যবধানে দুটি প্রকল্প লক্ষ্য করা গেছে। কিছু প্রকল্প দেখা গেছে ২০০০ ইটের দশ ইঞ্চি গাঁথুনি এবং ১৭ খুঁটির কাজ শেষ করেছে। বালু সিমেন্ট নামমাত্র ব্যবহার করেছে। ৭নং হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের চানগাজী ভূঁইয়া বাড়ির সামনে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। সেখানে ১৩০ থেকে ৪০ ফুট সলিং করা হয়েছে। ওই স্থানে কোন প্রকার বালু ব্যবহার করা হয়নি। শাহাপুর ইউনিয়নের মমিনপুরে মাত্র ৪ ফুট প্রস্থ করে সলিং করা হয়েছে। সেখানে কোনরূপ বালু ব্যবহার করা হয়নি। খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই গ্রামে হিন্দু বাড়ির সামনে প্যালাসাইডিং এর কাজ করা হয়। সেখানে ২০০০ ইটের মাত্র ১০ ইঞ্চি গাঁথুনি ও ১৭টি খুটির কাজ করা হয়েছে মাত্র।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, ইউনিয়নের সাত্তারপাড়া ঈদগার কাজ দেখানো হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। প্রকৃতপক্ষে সেখানে দুই ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে ১৫ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে কাজ শেষ করা হয়। তার সামান্য উত্তর পাশে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ভুইয়া বাড়ির মসজিদের রাস্তা সংস্কারের কাজের প্রকল্প দেওয়া হয়। সেখানেও ৩০ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট চওড়া রাস্তা মাত্র ১০ বস্তা সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু ওই ঢালাইতে কোন রড ব্যবহার করা হয়নি। যদিও দুই ইউনিয়নের দুটি প্রকল্প দেখানো হয়। এখানে দুটি প্রকল্পের পরিবর্তে একটি প্রকল্প হলে চলত। কিন্তু সেখানে একই সমাজের লোক এই দুই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু সেই প্রকল্পেরও কোন প্রকার সুষ্ঠু কাজ হয়নি।
তাছাড়া মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের পাল্লা বাজারের পশ্চিম পাশে হিন্দু বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ দেখানো হলেও ওই সংস্কার কাজেরও তেমন কোন আলামত দেখা যায়নি। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ২ লক্ষ টাকার কাজ করা হয়েছে। ওই কাজের কোন প্রয়োজন সেখানে নেই। অথচ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ পুকুরে ভেঙ্গে যায়, সেখানে কোন প্রকার কাজ করা হয়নি। অর্থাৎ এতেই বুঝা যায় পশ্চিম পাশে কাজ করলে খরচ বেশি লাগতো। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় জায়গায় সামান্য কাজ করে টাকা মেরে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এসব বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রত্যেক প্রকল্পই নামমাত্র কাজ করে বেশিরভাগ প্রকল্পের টাকা কন্টাক্টর এর পকেটে চলে গেছে। এডিপি’র টাকা জনগণের কাজে খরচ করার কথা থাকলেও এটা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন কিছু প্রকল্প দেখা গেছে যেখানে প্রকল্প দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বা রাস্তায়ও কোন প্রকার প্রকল্প দেওয়া হয়নি। এতে করে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করবে। সেটা না করে নামমাত্র প্রকল্প দিয়ে সরকারের টাকা কিছু রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে চলে যায়। সরকারের টাকা এভাবে ব্যক্তির পকেটে চলে যাওয়া এটা মেনে নেওয়া যায় না। দেশের প্রত্যেকটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতিতে ভরে গেছে। এ সকল দুর্নীতি থেকে সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের বের হয়ে আসতে হবে।
এ সকল প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাবিনা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি, এখনো এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত খবর নিতে পারিনি।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এডিপি’র টাকা এমপি মহোদয় যেভাবে বলেছেন সেভাবেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি কোন প্রকল্পে ঠিকাদার দুর্নীতি করে থাকে অথবা সরকারের চাহিদা বা ইচ্ছা মোতাবেক কাজ না করে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 










