ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দৃষ্টিনন্দন ২০১-গম্বুজ মসজিদ

টাঙ্গাইল থেকে ফিরে মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৯৪ বার পঠিত
টাঙ্গাইল থেকে ফিরে মৃণাল চৌধুরী সৈকত:  বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে প্রচুর নান্দনিক মসজিদ এবং ইসলামিক স্থাপনা। পৃথিবীতে মানুষের কল্যাণে যে ঘর নির্মিত হয়েছিল, তা হলো মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে ইসলামের প্রচার এবং প্রসার যেমন হচ্ছে তেমনী আল্লাহ তা’য়ালার এবাদত করতে মসজিদ নির্মিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এসব মসজিদ পবিত্র কাবাঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে।
নবী করীম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে কুবা পল্লীতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।
তথ্যমতে সেটিই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ। পরবর্তীতে তা মসজিদে কুবা হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। পরে নবী করিম (সা.) মদিনায় নির্মাণ করেন মসজিদে নববী।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলে মসজিদে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগি, সাহাবায়ে কেরামকে ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষাদান, বিচার-আচার, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামের বাণী প্রচারসহ নানাবিধ ধর্মীয়, সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে সুলতানি, মোগল ও বাংলাদেশ আমলের মসজিদ ও স্থাপনা। এসব মসজিদের মাঝে বর্তমান সময়ে নির্মিত টাঙ্গাইলের ২০১ গম্বুজ মসজিদটিও দেশ-বিদেশে ইসলামের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণ করা হয়েছে ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদে গম্বুজ আছে ২০১টি। মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঝিনাই নদীর তীরে দক্ষিন পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দু’টি হেলিপ্যাড।
ডিজাইন ও কারুকার্যের দিক থেকে মসজিদটি একটি ভিন্ন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে গড়ে উঠছে। মসজিদের টাইলসসহ যাবতীয় শোভাবর্ধনের শৌখিন কারুকার্য খচিত পাথরগুলো বিশ্বের কয়েকটি দেশ ঘুরে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আগমন ঘটে নিয়মিত। বিশেষ করে জুমার নামাজে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যাগে নির্মাণাধীন অবস্থায়ই ২০১৮ সালে ২০১ গম্বুজের মসজিদে ঈদের নামাজের মধ্যদিয়ে নামাজ আদায় শুরু হয়। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর এ মসজিদ কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ এখনও চলমান। এরই মাঝে ঈদের নামাজসহ নিয়মিত নামাজ হচ্ছে, প্রচুর দর্শনার্থী মসজিদটি দেখতে আসেন প্রতিদিন।
মসজিদের ছাদের মাঝখানের বড় ১টি গম্বুজ যার উচ্চতা ৮১ ফুট, বাকি ২০০টি গম্বুজ ১৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। মূল মসজিদের চার কোণে রয়েছে ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার। পাশাপাশি ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার।
১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থের দ্বিতল মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন একসঙ্গে প্রায় ১২/১৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। দেয়ালের টাইলসে অঙ্কিত আছে ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরিফ। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে মসজিদের দেয়ালের কোরআন শরিফ পড়তে পারবেন। মসজিদের প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মণ পিতল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যাগে নির্মিত ২০১ গম্বুজ মসজিদের পাশেই আজান প্রচারের জন্য ৪৫১ ফুট/১৩৮ মিটার ৫৬ তলা উচ্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মিনারটি হবে বিশ্বের সব চাইতে উচু ইটের তৈরি মিনার! বিশ্বের সবচাইতে উচু ইটের তৈরি মিনারটি বর্তমানে রয়েছে ভারতের দিল্লির কুতুব মিনার যার উচ্চতা ৭৩ মিটার ২৪০ ফুট , আর বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনারটি মরক্কোর কাসাব্লাংকায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে অবস্থিত। এর উচ্চতা ২১০ মিটার (৬৮৯ ফুট) তবে এটি ইটের তৈরি নয় ।
মসজিদের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আলাদা ভবন। ওই ভবনে থাকবে, দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা। মিহরাবের পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরী করা হবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দৃষ্টিনন্দন ২০১-গম্বুজ মসজিদ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
টাঙ্গাইল থেকে ফিরে মৃণাল চৌধুরী সৈকত:  বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে প্রচুর নান্দনিক মসজিদ এবং ইসলামিক স্থাপনা। পৃথিবীতে মানুষের কল্যাণে যে ঘর নির্মিত হয়েছিল, তা হলো মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে ইসলামের প্রচার এবং প্রসার যেমন হচ্ছে তেমনী আল্লাহ তা’য়ালার এবাদত করতে মসজিদ নির্মিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এসব মসজিদ পবিত্র কাবাঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে।
নবী করীম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে কুবা পল্লীতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।
তথ্যমতে সেটিই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ। পরবর্তীতে তা মসজিদে কুবা হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। পরে নবী করিম (সা.) মদিনায় নির্মাণ করেন মসজিদে নববী।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলে মসজিদে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগি, সাহাবায়ে কেরামকে ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষাদান, বিচার-আচার, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামের বাণী প্রচারসহ নানাবিধ ধর্মীয়, সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে সুলতানি, মোগল ও বাংলাদেশ আমলের মসজিদ ও স্থাপনা। এসব মসজিদের মাঝে বর্তমান সময়ে নির্মিত টাঙ্গাইলের ২০১ গম্বুজ মসজিদটিও দেশ-বিদেশে ইসলামের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণ করা হয়েছে ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদে গম্বুজ আছে ২০১টি। মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঝিনাই নদীর তীরে দক্ষিন পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দু’টি হেলিপ্যাড।
ডিজাইন ও কারুকার্যের দিক থেকে মসজিদটি একটি ভিন্ন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে গড়ে উঠছে। মসজিদের টাইলসসহ যাবতীয় শোভাবর্ধনের শৌখিন কারুকার্য খচিত পাথরগুলো বিশ্বের কয়েকটি দেশ ঘুরে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আগমন ঘটে নিয়মিত। বিশেষ করে জুমার নামাজে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যাগে নির্মাণাধীন অবস্থায়ই ২০১৮ সালে ২০১ গম্বুজের মসজিদে ঈদের নামাজের মধ্যদিয়ে নামাজ আদায় শুরু হয়। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর এ মসজিদ কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ এখনও চলমান। এরই মাঝে ঈদের নামাজসহ নিয়মিত নামাজ হচ্ছে, প্রচুর দর্শনার্থী মসজিদটি দেখতে আসেন প্রতিদিন।
মসজিদের ছাদের মাঝখানের বড় ১টি গম্বুজ যার উচ্চতা ৮১ ফুট, বাকি ২০০টি গম্বুজ ১৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। মূল মসজিদের চার কোণে রয়েছে ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার। পাশাপাশি ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার।
১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থের দ্বিতল মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন একসঙ্গে প্রায় ১২/১৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। দেয়ালের টাইলসে অঙ্কিত আছে ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরিফ। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে মসজিদের দেয়ালের কোরআন শরিফ পড়তে পারবেন। মসজিদের প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মণ পিতল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যাগে নির্মিত ২০১ গম্বুজ মসজিদের পাশেই আজান প্রচারের জন্য ৪৫১ ফুট/১৩৮ মিটার ৫৬ তলা উচ্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মিনারটি হবে বিশ্বের সব চাইতে উচু ইটের তৈরি মিনার! বিশ্বের সবচাইতে উচু ইটের তৈরি মিনারটি বর্তমানে রয়েছে ভারতের দিল্লির কুতুব মিনার যার উচ্চতা ৭৩ মিটার ২৪০ ফুট , আর বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনারটি মরক্কোর কাসাব্লাংকায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে অবস্থিত। এর উচ্চতা ২১০ মিটার (৬৮৯ ফুট) তবে এটি ইটের তৈরি নয় ।
মসজিদের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আলাদা ভবন। ওই ভবনে থাকবে, দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা। মিহরাবের পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরী করা হবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।