শামীম হোসেন সাপাহার , নওগাঁ:
টানা প্রায় ২০ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নওগাঁ জেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলা সদরসহ সাপাহার, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার হাজারো মানুষ।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত ১০ জুলাই দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময়ে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁ শহরের প্রধান সড়কগুলোসহ শহরের অধিকাংশ অলিগলি হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে আছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। শহরের অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।
সাপাহারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকার কৃষিজমি এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগের শিকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলে পানি জমার সমস্যা দীর্ঘদিনের। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের ঘর থেকে বের হওয়া দায় হয়ে পড়ে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১.৮৭ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, “প্রতি বছর বর্ষায় আমাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করুক, যাতে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 

















