কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ডাকাতিয়া নদীর কোলে অবস্থিত গ্রাম চাঁন্দপুর। গ্রামটি নাঙ্গলকোট উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত। গ্রামটিতে প্রায় ১শ’ পরিবারের সহস্ত্রাধিক মানুষের বসবাস। স্বাধীনতার দীর্ঘ সাড়ে ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রামটিতে নির্মাণ করা হয়নি কোন পাকা সড়ক। গ্রামের একমাত্র প্রধান কাঁচা রাস্তাটি এখনো অবহেলিত। গ্রামের একপাশ থেকে অপর পাশের এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা মাটির রাস্তাটিও বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পক্ষে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে শিক্ষার্থী, বয়স্ক, নারী, শিশু এবং অসুস্থ রোগীদের প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাদার কারণে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে জীবনঝুঁকিতে পড়েন রোগী, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা।
চাঁন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন শরিফ বলেন, গ্রামবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু তারা বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো উন্নয়নকাজ না হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা হবিগঞ্জের ফতেহপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের তালুকদার, একই গ্রামের ব্যবসায়ী শাহজালাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মী শাহাদাত তালুকদার বলেন, একটি পাকা সড়ক শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্যের নিকট দাবি জানান, যেন সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মাটির সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে রাস্তাটি পাকাকরণে গ্রামবাসীর ন্যায্য দাবির বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রামের মানুষের সড়কের দুর্ভোগ মুছে যাবে এটিই এখন সময়ের দাবি।
রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার জিয়াউল হক জিতু বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণে আমরা উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার অবহিত করেও ব্যর্থ হয়েছি। রাস্তাটিতে মাটি দিলেও থাকে না, নদীর পাশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ ব্যতীত রাস্তায় মাটি রাখা সম্ভব নয়।
রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক উত্তম কুমার পাল বলেন, আমি এ ইউনিয়নে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোন বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে মাটির রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করব।
নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, চাঁন্দপুর গ্রামের ২টি রাস্তার প্রস্তাব আছে, আমরা ইস্টিমেট করে পাঠাবো। আশা করছি আগামী ৩মাসে পাক কলন রেডি করে পাঠাতে পারবো।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘব করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 

















