নবীনগরে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫
- / ১০৪ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আরো একজন ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। উপজেলা সদরের সালাম রোড থেকে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ নেতার নাম আল আমীন ফকির ডালিম। তিনি উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী মামলায় যে ২৪ জনকে আসামি করা হয়, এর মধ্যে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা ডালিম ১২ নম্বর আসামি। পুলিশ এ মামলায় মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় নাগরিক ভাবনা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক। এদিকে দীর্ঘদিন বিরতির পর হঠাৎ আবারও শহর থেকে এক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তারের খবরে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ফের গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বাদী ওই মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, উপজেলার রাধিকা সড়কের কণিকাড়া ব্রিজের কাছে গত ৬ ডিসেম্বর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন সন্ত্রাসীসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নাশকতা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ পরে নবীনগর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা জামাল হোসেন ও ছাত্রলীগ নেতা রাজীব মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয় ওই বহুল আলোচিত ও সমালোচিত মামলায় যে ২৪ জনকে আসামি করা হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাতমোড়া ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও লাউর ফতেপুর ইউপি’র আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি জাকির হোসেন সাদেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শফিক ও ভিপি আবদুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বোরহান উদ্দিন আহমেদ নসুসহ সভাপতি ভিপি বশির আহমেদ সরকার পলাশ, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা মির্জা সালাউদ্দিন সবুজ ও ওমর ফারুক, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সামস আলম, সহসভাপতি শামীম কবির, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল রোমান, সাবেক দুই আহবায়ক পারভেজ হোসেন ও আবু সাঈদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ও ৫ আগস্টের পর বিদায়ী আওয়ামীলী এমপি ফয়জুর রহমান বাদলের প্রেস সেক্রেটারি আমীর হোসেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি সস্পূর্ণ মিথ্যা একটি রাজনৈতিক ও বাণিজ্য মামলা। যার কোনোই ভিত্তি নেই। মূলত সরকারের ইশারায় বেছে বেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় অ্যাক্টিভ নেতাকর্মীদের ‘পলাতক’ রাখতেই পুলিশ বাদী হয়ে এ ধরনের হাস্যকর এ মিথ্যা মামলাটি করেছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে এসব রাজনৈতিক মামলা কখনোই টিকবে না।’
তবে এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক রবিবার সন্ধ্যায় নাগরিক ভাবনাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, সাক্ষী প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতেই এসআই আশরাফুল আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেছে। মামলায় ২৪ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।’


















