ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নাচোলে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:২০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৬৮ বার পঠিত
Print News
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের কালইর (কাঁঠালপাড়া) গ্রামের মোস্তাকিন এর স্ত্রী মুসলেমা বেগম (২৫) এর ১৬ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত মুসলেমার শশুর ফজলুর রহমানের কাছে  এই বিষয় এ ,জানতে চাইলে তিনি বলেন,  মুসলেমা তার নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, আমার মেয়ে প্রথমে দেখতে পায় এবং পরিবারের লোকজন তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফ্যান থেকে  নামায়। তখনো সে জীবিত ছিল, এবং সঙ্গে সঙ্গে পল্লী চিকিৎসক ইসমাইল হক কে ডাকলে,তিনি  এসে দেখার পর বলে সে মারা গেছে। তাৎক্ষণিক কসবা ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাবকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানালে, কিছুক্ষণ পরে নাচোল থানা পুলিশ এসে আমার বউমার লাশ এবং  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমার ছেলে মোস্তাকিনকে থানায় নিয়ে যায়। মৃতের স্বামীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মুস্তাকিনের স্ত্রী মুসলেমা দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যহীন ছিল, এর কারণে সে মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন। কিন্তু মৃতের পরিবার ছাড়া আর কেউ গলায় দড়ি বা ফাঁসি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেননি বলে গ্রামবাসীরাও জানান। মৃত মুসলেমা একই উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কামারজগইল গ্রামের মৃত জুদ্দিন আলীর মেয়ে। ৭বছর পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। তার আড়াই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।এদিকে মৃতের মা, ভাই ও তাদের পরিবার বলছেন অন্য কথা। মৃতের মা বলেন, কয়েকদিন থেকে আমার মেয়েকে মারধর করে আসছে জামাই মোস্তাকিন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও  আমার মেয়ে মুসলেমা ফোন অনেক কান্নাকাটি করে বলে, মা তোমরা এসে আমাকে নিয়ে যাও। নইতো ওরা আমাকে যেকোন সময় মেরে ফেলতে পারে। কথা বলার আনুমানিক এক ঘণ্টা পরে মৃতের শশুর ফজলুর রহমান ফোন করে বলেন যে আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা গিয়ে দেখি মুসলেমার লাশ নিচে পড়ে আছে। মৃতের মা এবং তার পরিবার দাবি করে বলেন যে, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেনা, এটা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে জামাই মোস্তাকিন এবং তার পরিবারের লোকজন। আমরা এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিমের স্বামী মোস্তাকিনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে জানা যাবে আসল রহস্য, হত্যা না আত্মহত্যা। তবে থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নাচোলে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:২০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
Print News
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের কালইর (কাঁঠালপাড়া) গ্রামের মোস্তাকিন এর স্ত্রী মুসলেমা বেগম (২৫) এর ১৬ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত মুসলেমার শশুর ফজলুর রহমানের কাছে  এই বিষয় এ ,জানতে চাইলে তিনি বলেন,  মুসলেমা তার নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, আমার মেয়ে প্রথমে দেখতে পায় এবং পরিবারের লোকজন তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফ্যান থেকে  নামায়। তখনো সে জীবিত ছিল, এবং সঙ্গে সঙ্গে পল্লী চিকিৎসক ইসমাইল হক কে ডাকলে,তিনি  এসে দেখার পর বলে সে মারা গেছে। তাৎক্ষণিক কসবা ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাবকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানালে, কিছুক্ষণ পরে নাচোল থানা পুলিশ এসে আমার বউমার লাশ এবং  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমার ছেলে মোস্তাকিনকে থানায় নিয়ে যায়। মৃতের স্বামীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মুস্তাকিনের স্ত্রী মুসলেমা দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যহীন ছিল, এর কারণে সে মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন। কিন্তু মৃতের পরিবার ছাড়া আর কেউ গলায় দড়ি বা ফাঁসি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেননি বলে গ্রামবাসীরাও জানান। মৃত মুসলেমা একই উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কামারজগইল গ্রামের মৃত জুদ্দিন আলীর মেয়ে। ৭বছর পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। তার আড়াই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।এদিকে মৃতের মা, ভাই ও তাদের পরিবার বলছেন অন্য কথা। মৃতের মা বলেন, কয়েকদিন থেকে আমার মেয়েকে মারধর করে আসছে জামাই মোস্তাকিন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও  আমার মেয়ে মুসলেমা ফোন অনেক কান্নাকাটি করে বলে, মা তোমরা এসে আমাকে নিয়ে যাও। নইতো ওরা আমাকে যেকোন সময় মেরে ফেলতে পারে। কথা বলার আনুমানিক এক ঘণ্টা পরে মৃতের শশুর ফজলুর রহমান ফোন করে বলেন যে আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা গিয়ে দেখি মুসলেমার লাশ নিচে পড়ে আছে। মৃতের মা এবং তার পরিবার দাবি করে বলেন যে, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেনা, এটা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে জামাই মোস্তাকিন এবং তার পরিবারের লোকজন। আমরা এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিমের স্বামী মোস্তাকিনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে জানা যাবে আসল রহস্য, হত্যা না আত্মহত্যা। তবে থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।