ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নামাজ পড়ে ফেরার পথে চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

জেমস আব্দুর রহিম রানা
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৩ বার পঠিত
জেমস আব্দুর রহিম রানা : যশোরের শার্শা উপজেলা এলাকায় নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারিপোতা গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আল আমিন (স্থানীয়ভাবে আলামিন নামে পরিচিত) নাভারন এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন পরিচিত ও সেবাপরায়ণ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাতেও তিনি নামাজ আদায় করতে বাড়ির পাশের মসজিদে যান। নামাজ শেষে একাই বাড়ির পথে রওনা হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ হাসান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছেন। অপরদিকে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নামাজ পড়ে ফেরার পথে চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জেমস আব্দুর রহিম রানা : যশোরের শার্শা উপজেলা এলাকায় নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারিপোতা গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আল আমিন (স্থানীয়ভাবে আলামিন নামে পরিচিত) নাভারন এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন পরিচিত ও সেবাপরায়ণ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাতেও তিনি নামাজ আদায় করতে বাড়ির পাশের মসজিদে যান। নামাজ শেষে একাই বাড়ির পথে রওনা হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ হাসান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছেন। অপরদিকে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।