ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিঃশব্দ মানবিকতায় ইউএনও সানজিদা

জাহিদ হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২ বার পঠিত
জাহিদ হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তীব্র শীতের প্রকোপে যখন নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। দিনের আলোর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে, রাতের আঁধারে তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন শীতবস্ত্র, যা উপজেলায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রতিদিন রাত গভীর হলে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন সংলগ্ন স্থান ও রাস্তার পাশে অবস্থান করা অসহায় মানুষদের খোঁজে বের হন ইউএনও সানজিদা রহমান। সঙ্গে থাকে উপজেলা প্রশাসনের একটি ছোট টিম। কোথাও কোনো মাইকিং বা প্রচার নয়, নিরবে, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন তাঁরা হলো দিনমজুর, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, ভবঘুরে ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষ।তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এই কম্বল বিতরণে। কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক শীতার্ত মানুষ। মোহাম্মদ আলী নামের একজন কম্বল পেয়ে বলেন, “রাতে এমন করে কেউ এসে খোঁজ নেয়, এটা ভাবতেই পারি নি”। মনজুরুল মিয়া নামের আরেক উপকারভোগী বলেন, “শীতে কাঁপছিলাম, আল্লাহ ইউএনও ম্যাডামকে পাঠাইছে”। এসব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “শীত মানুষের জন্য নীরব দুর্যোগ। বিশেষ করে রাতের বেলা এর কষ্ট সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আছেন যারা প্রকাশ্যে সাহায্য চাইতে পারেন না। তাই চেষ্টা করছি, যেন প্রকৃত শীতার্ত কেউ বাদ না পড়ে”। তিনি আরও জানান, এই কার্যক্রম পুরো শীত মৌসুম জুড়েই চলবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই উদ্যোগ শুধু শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দায়বদ্ধতা ও জনবান্ধব প্রশাসনের বাস্তব উদাহরণ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্য উপজেলা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও অনুপ্রাণিত করবে। শীতের রাতে ঈশ্বরগঞ্জের অন্ধকার পথে ইউএনও সানজিদা রহমানের এই নিঃশব্দ মানবিক উপস্থিতি নিঃসন্দেহে শীতার্ত মানুষের জন্য এক উষ্ণ আশ্বাস হয়ে উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নিঃশব্দ মানবিকতায় ইউএনও সানজিদা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
জাহিদ হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তীব্র শীতের প্রকোপে যখন নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। দিনের আলোর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে, রাতের আঁধারে তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন শীতবস্ত্র, যা উপজেলায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রতিদিন রাত গভীর হলে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন সংলগ্ন স্থান ও রাস্তার পাশে অবস্থান করা অসহায় মানুষদের খোঁজে বের হন ইউএনও সানজিদা রহমান। সঙ্গে থাকে উপজেলা প্রশাসনের একটি ছোট টিম। কোথাও কোনো মাইকিং বা প্রচার নয়, নিরবে, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন তাঁরা হলো দিনমজুর, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, ভবঘুরে ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষ।তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এই কম্বল বিতরণে। কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক শীতার্ত মানুষ। মোহাম্মদ আলী নামের একজন কম্বল পেয়ে বলেন, “রাতে এমন করে কেউ এসে খোঁজ নেয়, এটা ভাবতেই পারি নি”। মনজুরুল মিয়া নামের আরেক উপকারভোগী বলেন, “শীতে কাঁপছিলাম, আল্লাহ ইউএনও ম্যাডামকে পাঠাইছে”। এসব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “শীত মানুষের জন্য নীরব দুর্যোগ। বিশেষ করে রাতের বেলা এর কষ্ট সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আছেন যারা প্রকাশ্যে সাহায্য চাইতে পারেন না। তাই চেষ্টা করছি, যেন প্রকৃত শীতার্ত কেউ বাদ না পড়ে”। তিনি আরও জানান, এই কার্যক্রম পুরো শীত মৌসুম জুড়েই চলবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই উদ্যোগ শুধু শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দায়বদ্ধতা ও জনবান্ধব প্রশাসনের বাস্তব উদাহরণ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্য উপজেলা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও অনুপ্রাণিত করবে। শীতের রাতে ঈশ্বরগঞ্জের অন্ধকার পথে ইউএনও সানজিদা রহমানের এই নিঃশব্দ মানবিক উপস্থিতি নিঃসন্দেহে শীতার্ত মানুষের জন্য এক উষ্ণ আশ্বাস হয়ে উঠেছে।